Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভ্যালেন্টাইনস ডে (2019 Pulwama Attack)। চারদিকে ভালোবাসার বার্তা, লাল গোলাপ, শুভেচ্ছার বন্যা। কিন্তু ২০১৯ সালের এই দিনেই ভারতের ইতিহাসে লেখা হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়। জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা-য় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় শহীদ হন CRPF-এর ৪০ জন বীর জওয়ান। সাত বছর পেরিয়েও সেই বিকেলের বিস্ফোরণের শব্দ যেন এখনও কাঁপিয়ে দেয় দেশের মন।
ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন (2019 Pulwama Attack)
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, দুপুর প্রায় ৩টে ১৫ (2019 Pulwama Attack) মিনিট। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক ধরে এগোচ্ছিল CRPF-এর ৭৮টি গাড়ির বিশাল কনভয়। প্রায় ২,৫০০ জওয়ান ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। কেউ সদ্য বিয়ে করে ফিরছিলেন, কেউ সন্তানের জন্মদিনের কেক কেটে বেরিয়েছেন, কেউ আবার অসুস্থ বাবা-মায়ের পাশে কয়েকটা দিন কাটিয়ে ফিরছিলেন দায়িত্বের ডাকে।

বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির ধাক্কা (2019 Pulwama Attack)
অবন্তীপোরার লেথপোরা এলাকায় পৌঁছাতেই আচমকা (2019 Pulwama Attack) বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি কনভয়ের একটি বাসে সজোরে ধাক্কা মারে। আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমদ দার শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাসটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ধোঁয়া, আগুন আর আর্তনাদে ঢেকে যায় চারপাশ। ঘটনাস্থলেই শহীদ হন ৪০ জন জওয়ান। বহু জওয়ান গুরুতর আহত হন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে বিধ্বস্ত বাসের ছবি। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা ভারত।

হামলার দায় স্বীকার (2019 Pulwama Attack)
পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ হামলার (2019 Pulwama Attack) দায় স্বীকার করে। তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় NIA-র হাতে। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৩০০ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮০ কেজি ছিল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আরডিএক্স। সীমান্তপারের মদত, স্থানীয় সহযোগিতা এবং সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে আসে। ২০২০ সালে এনআইএ ১৯ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তী অভিযানে একাধিক জঙ্গিকে নিকেশ করে নিরাপত্তাবাহিনী এবং অন্যদের গ্রেফতার করা হয়।
ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় (2019 Pulwama Attack)
পুলওয়ামা হামলার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় (2019 Pulwama Attack) ওঠে। ঠিক ১২ দিন পর, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে এয়ার স্ট্রাইক চালায়। এটি ছিল নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতের অন্যতম বড় সামরিক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়।

মর্যাদা বাতিল (2019 Pulwama Attack)
ভারত পাকিস্তানের ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (MFN) মর্যাদা বাতিল করে। পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত পণ্যে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। কূটনৈতিক স্তরে পাকিস্তানকে চাপে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। দেশের নানা প্রান্তে আজ পুলওয়ামার শহীদদের স্মরণে প্রার্থনা সভা, মোমবাতি মিছিল এবং শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় ভরেছে টাইমলাইন।
স্মৃতি ভুলতে পারেননি
অনেক পরিবার আজও সেই দিনের স্মৃতি ভুলতে পারেননি। কারও সন্তান আজ বড় হয়ে বাবার পথেই নিরাপত্তাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে, কারও মা এখনও সন্তানের ছবিতে ফুল দিয়ে দিন শুরু করেন। পুলওয়ামা কেবল একটি হামলা নয়—এটি অসংখ্য পরিবারের না-ফেরা অপেক্ষার গল্প।
আরও পড়ুন: Weather Report: ভালোবাসার দিনে কতটা উষ্ণ থাকবে আবহাওয়া?
পুলওয়ামার সেই রক্তাক্ত বিকেল ভারতকে মনে করিয়ে দিয়েছিল সন্ত্রাসবাদের নির্মম মুখ। কিন্তু একই সঙ্গে দেখিয়েছিল দেশের ঐক্য, সংহতি ও প্রতিরোধের শক্তি। দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা সেই ৪০ জন বীর জওয়ানের আত্মবলিদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভালোবাসার দিনেই যারা দেশের জন্য প্রাণ দিলেন, তাদের প্রতি আজ কৃতজ্ঞ জাতির শ্রদ্ধা ও প্রণাম।


