Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল ভারতীয় কোস্ট গার্ড (South 24 Parganas)। টহলদারির সময় ভারতীয় জলসীমার মধ্যে একটি সন্দেহজনক ট্রলারের গতিবিধি নজরে আসে। সতর্ক হয়ে জওয়ানরা ট্রলারটিকে ধাওয়া করেন এবং ‘এফবি সাগর’ নামে চিহ্নিত ওই ট্রলারকে ঘিরে ফেলেন। তল্লাশি চালিয়ে ট্রলারে থাকা ২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে আটক করা হয়। তাঁদের অধিকাংশই বাংলাদেশের কুতুবদিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকালে আটক মৎস্যজীবীদের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলে নিয়ে এসে কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার কাকদ্বীপ আদালতে তোলা হবে।

রিকল্পিত অনুপ্রবেশ? (South 24 Parganas)
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, মৎস্য আহরণের সময় দিকভ্রান্ত হয়ে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়েছেন এমন দাবি করেছেন আটক ব্যক্তিরা। তবে প্রশাসনের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট নয়। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা তীব্র। ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের খোঁজে মৎস্যজীবীরা অনেক সময় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলেন। জিপিএস বা আধুনিক নৌ-নির্দেশক যন্ত্রের অভাব, খারাপ আবহাওয়া কিংবা স্রোতের টানে দিকভ্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে বারবার একই ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটায় প্রশ্ন উঠছে এ কি শুধুই আর্থিক প্রয়োজনে সীমা লঙ্ঘন, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনও উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে? গোয়েন্দা বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে।

উপকূল নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ (South 24 Parganas)
গত কয়েক বছরে একাধিকবার ভারতীয় জলসীমায় বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের আটক করা হয়েছে। এর ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ উপকূলরেখা এবং সুন্দরবন সংলগ্ন জলপথ কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চল দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান কিংবা অন্য অবৈধ কার্যকলাপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসন বরাবরই সতর্ক। উপকূলরক্ষী বাহিনী নিয়মিত টহল বাড়ালেও, সমুদ্রপথে নজরদারি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমানা দৃশ্যমান নয়, ফলে ছোট ট্রলারগুলির ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি (South 24 Parganas)
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মিটেছে। তবে বাস্তবে মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা নির্ভর এই সীমান্তে সংঘাত থামেনি। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগের মাধ্যমে আটক মৎস্যজীবীদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অতীতেও এমন নজির রয়েছে। তবে প্রতিটি ঘটনাই প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায়। এখানে একটি মানবিক প্রশ্নও জড়িত দারিদ্র্য, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা অনেক সময় মৎস্যজীবীদের ঝুঁকি নিতে বাধ্য করে। কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
কড়াকড়ি নাকি সমন্বয়?
বারবার অনুপ্রবেশের ঘটনা স্পষ্ট করছে যে কেবলমাত্র টহলদারি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন, দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত মৎস্যনীতি, আধুনিক নৌ-নির্দেশক যন্ত্র ব্যবহারে সচেতনতা, যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ ও তথ্য বিনিময় ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশ শুধু আইনি অপরাধ নয়, এটি একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রশ্ন। তাই কঠোরতা ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।



