Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২রা অক্টোবর অনেকের কাছেই কেবলমাত্র একটা ছুটির দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে (2nd October)। শনি-রবির টানা ছুটির পরে যখন সোমবার ফের শুরু হয় স্কুল, কলেজ, অফিস-আদালতের ব্যস্ততা, তখন হঠাৎ করেই ক্যালেন্ডারে লাল দাগ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ২রা অক্টোবর। এই দিনটায় একরাশ স্বস্তি মেলে টানা তিন দিনের ছুটি! কেউ হয়তো বাজারে গিয়ে পুজোর কেনাকাটা সারবেন, কেউ বা পরিবারের সঙ্গে শহরের বাইরে একটু ঘুরে আসবেন। কিন্তু এই ছুটির আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় এর প্রকৃত তাৎপর্য।
ইতিহাসের পাতায় ২রা অক্টোবর! (2nd October)
ভারতবর্ষ স্বাধীন হলো ১৯৪৭ সালে। স্বাধীনতার এই সংগ্রামে অগণিত নাম, ত্যাগ আর আত্মবলিদান জড়িয়ে আছে। মহাত্মা গান্ধী সেই সংগ্রামের অন্যতম প্রধান চরিত্র। অহিংসা আর সত্যাগ্রহের মাধ্যমে তিনি যে পথ দেখিয়েছিলেন, তা আজও বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য। স্কুল বা চাকরির পরীক্ষার খাতায় আমরা তাঁর নাম লিখি, ঘটনাগুলি মুখস্থ করি। কিন্তু বাস্তবে তাঁর চিন্তা, দর্শন, জীবনের লড়াই এবং ত্যাগ সেসব নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। ইতিহাসের পাতায় তিনি রয়ে গেছেন, কিন্তু হৃদয়ের ভাঁজে কতটা জায়গা পেয়েছেন, তা ভেবে দেখা দরকার।
সোশ্যাল মিডিয়ার কৌতুক বনাম সম্মান! (2nd October)
২রা অক্টোবর মানেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মিম, কৌতুক বা ব্যঙ্গচিত্র। গান্ধীজীর ছবি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করে পোস্ট করলে মুহূর্তের জন্য কিছু লাইক বা হাসি মিলতে পারে। কিন্তু সম্মান কি এভাবেই দেওয়া যায়? আমরা ভারতীয় বলে গর্ব করি, অথচ নিজেদের দেশের মানুষকেই অসম্মান করতে দ্বিধা করি না। সম্মান না দিতে পারলেও, অন্তত অপমান করার অধিকার কারও নেই।
মানুষ, ভগবান নয়! (2nd October)
গান্ধীজি কখনো ভগবান ছিলেন না, তবে তিনি ভগবানকে বিশ্বাস করতে বলতেন। তার থেকেও বড় কথা, তিনি মানুষকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর কথায় “আত্ম উপলব্ধি পরমপ্রাপ্তির মূল লক্ষ্য।” তিনি মানুষ ছিলেন, তাই তাঁরও ভুল ছিল। কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিন্তু কেবল তাঁর ভুলের দিকটাই ধরে আমরা যদি বর্তমান প্রজন্মকে শিক্ষা দিই, তবে তাদের কাছে পৌঁছে যাবে একপেশে চিত্র। ইতিহাসের ভারসাম্য তখন ভেঙে যায়।
নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ আর দেশাত্মবোধের আবেগ (2nd October)
আজ যদি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন হতো, তাহলে সকাল থেকেই দেশপ্রেমের স্রোত বইত। বাংলার ঘরে ঘরে রবীন্দ্রসংগীত বেজে উঠত, কিংবা নেতাজির বীরত্বগাথা নিয়ে আলোচনায় মাতত মানুষ। বাঙালি হয়ে নেতাজিকে ভালোবাসে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আবার রবীন্দ্রপ্রেমও এই মাটির অঙ্গ। কিন্তু কেবল নেতাজি ভক্ত বা রবীন্দ্রপ্রেমী হলেই মানুষ হওয়া যায় না। আসল শিক্ষা হল মানুষকে সম্মান করা, তার কাজকে মর্যাদা দেওয়া।
পরিবর্তন নিজের ভেতর থেকে (2nd October)
সম্মান দিলে সম্মান ফেরত আসে। অপমান দিলে অপমানই ফিরে আসে। আমাদের আজ ভাবতে হবে আগামী প্রজন্মকে আমরা কী তথ্য, কী শিক্ষা দিচ্ছি। রাজনীতি জানা মানেই মানুষ হওয়া নয়। কিংবা কোনো সাহিত্যিক বা বিপ্লবীর ভক্ত হওয়াও মানুষ হয়ে ওঠার নিশ্চয়তা নয়। মানুষ হতে হলে আগে আমাদের নিজেদের মধ্যে মূল্যবোধ জাগাতে হবে।
আরও পড়ুন: Kanakdurga Jhargram: চারশো বছরেরও পুরনো কনকদুর্গা মন্দির কেন এত রহস্যঘেরা?
কেবল ক্যালেন্ডারের ছুটি নয়!
এটি এমন এক দিন, যেদিন আমাদের স্মরণ করা উচিত অহিংসা, আত্মবিশ্বাস আর সত্যের শক্তিকে। গান্ধীজি ভগবান ছিলেন না, তবে মানুষকে মানুষ হতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর ভুলের বিচার ইতিহাস করবে, কিন্তু আমরা যদি সম্মানটুকুও না দিই, তবে তা কেবল তাঁকেই নয়, নিজেদের সংস্কৃতিকেও অসম্মান করা হবে।



