Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রজাতন্ত্র দিবসের ভোরে যখন দেশ উৎসবে মেতেছে, ঠিক সেই সময়েই এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। সোমবার ভোররাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ রোডে একটি নামী ব্র্যান্ডের মোমো তৈরির কারখানায় বিধ্বংসী আগুন লাগে (Massive Fire)। এই ঘটনায় কারখানার ভেতরে আটকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তিন নিরাপত্তাকর্মীর। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর পুলিশ ও দমকল তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণা বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ভোররাতের লেলিহান শিখা ও আতঙ্ক (Massive Fire)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ৩টে নাগাদ রুবি আরবানার ঠিক পিছনে অবস্থিত ওই কারখানাটিতে প্রথম আগুন দেখতে পাওয়া যায়। শীতের রাতে যখন শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গ্রাস পৌঁছে যায় কারখানার সর্বত্র। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে পার্শ্ববর্তী একটি ডেকরেটরস-এর গুদাম এবং কেক তৈরির কারখানাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
আরও পড়ুন:Nandigram: রানিচক দখল তৃণমূলের, নন্দীগ্রামে পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্ক!
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। কিন্তু এলাকাটি ঘিঞ্জি এবং কারখানায় পৌঁছনোর রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করতে বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের (Massive Fire)। এছাড়া কারখানায় প্রচুর পরিমাণে পাম তেল, গ্যাস সিলিন্ডার এবং দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন আয়ত্তে আনতে কালঘাম ছোটে আধিকারিকদের। একাধিক সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আগুনের তেজ আরও বৃদ্ধি পায়।
“আর বাঁচব না” শেষ ফোনের আকুতি (Massive Fire)
ঘটনার সময় কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ থাকায় ভেতরে আটকে পড়েন কর্মরতরা। নিখোঁজ তিন কর্মীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আগুন লাগার পর থেকে তাঁদের ফোন বন্ধ ছিল (Massive Fire)। তবে পঙ্কজ হালদার নামে এক কর্মী মৃত্যুভয় পেয়ে স্ত্রীকে ফোন করে শেষবারের মতো বলেছিলেন, “আর বাঁচব না, গেট তালা বন্ধ।” দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁদের মৃত্যুর খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনেরা।
আরও পড়ুন:Humayun Kabir: তৃণমূলের আক্রমণে কৌশল বদলালেন হুমায়ুন কবীর
প্রাথমিকভাবে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Massive Fire) ঘটেছে। তবে কারখানার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কিনা, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। ঘিঞ্জি এলাকায় দাহ্য তেল ও সিলিন্ডার মজুত রাখার কোনো অনুমতি ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


