Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেবযানী সরকার: স্কুল মানেই শুধু বই, খাতা আর ক্লাসরুম নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের পুষ্টি, খেলাধুলা এবং সুস্থ মানসিক বিকাশও যে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও পড়ুয়াবান্ধব করে তুলতে একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি (Shuvendu Adhikari)।
আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার জন্য মিড-ডে মিল (Shuvendu Adhikari)
কলকাতায় ইসকনের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার কাছে পৌঁছচ্ছে মিড-ডে মিল। এবার সেই পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, কলকাতার প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়াকে ইসকনের মাধ্যমে খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন সেদ্ধ ডিম দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ফলে পড়ুয়াদের পুষ্টির ঘাটতি মেটানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও নজর (Shuvendu Adhikari)
শুধু পুষ্টি নয়, পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে স্কুলপড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজনীয় হলেও তার অতিরিক্ত নির্ভরতা যাতে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর বক্তব্যে।
বদল আসতে পারে সিলেবাসেও (Shuvendu Adhikari)
শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু পরিকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, পাঠ্যক্রমেও বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের মতো ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে পড়ুয়াদের জানাতে তাঁদের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সংস্কৃত দিবস পালনের উদ্যোগ এবং উপযুক্ত শিক্ষক ও আচার্য নিয়োগের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: Mostafijur Rahaman: ‘নিজের বুথে আপনি যে সিপিএম, মানুষ জানে তো?’ রানার বিস্ফোরক বার্তা
লক্ষ্য দেশের প্রথম দশে
পশ্চিমবঙ্গকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম দশের মধ্যে নিয়ে আসতে আরও তিন বছর সময় লাগবে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ঘোষণা থেকে বাস্তবায়নের পথটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, দক্ষ শিক্ষক, পুষ্টিকর খাবার এবং খেলাধুলার সুযোগ—সবকিছুর সমন্বয় ঘটানো গেলে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন সম্ভব। এখন দেখার, ঘোষিত এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং তার সুফল পড়ুয়াদের জীবনে কতটা পৌঁছয়।



