Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল আগামী ২৬ অক্টোবর বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হবে (Suvendu Adhikari)। তবে চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার জেরে সেই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় বড়সড় পরিবর্তন আনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কোনও ধরনের আড়ম্বর বা জাঁকজমক থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, উৎসবের আনন্দের পরিবর্তে এবার এই অনুষ্ঠান হয়ে উঠবে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এবং আহতদের পাশে দাঁড়ানোর মঞ্চ। ঘটনার অভিঘাত যে প্রশাসনের অনুষ্ঠান পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলেছে, এই সিদ্ধান্তে তা স্পষ্ট।

নিহত ১৯ জনের প্রতি শ্রদ্ধা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য (Suvendu Adhikari)
চোরবাগানের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। বিজয়া সম্মেলনীতে তাঁদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় আহতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দেবে রাজ্য সরকার। আহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হবে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানানো এবং বিপর্যয়ের সময় তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া। কলকাতা, হাওড়া, দার্জিলিং, চন্দননগর ও বিধাননগরের পুরসভাগুলিকে নিয়ে এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পুজোর নিরাপত্তায় ত্রুটি কোথায়, পর্যালোচনায় প্রশাসন (Suvendu Adhikari)
চোরবাগানের ঘটনার পর পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী বছর যাতে একই ধরনের ত্রুটি আর না ঘটে, সে জন্য পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে আলোচনা করে অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল, ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে কীভাবে তা এড়ানো যায়, সেই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামী বছরের পুজোকে আরও নিরাপদ করে তোলাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
ভিড় সামলাতে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ (Suvendu Adhikari)
পুজোর বাকি দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ আধিকারিকদের নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ সচল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার মতো বিষয়গুলিতে বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। উৎসবের শেষ দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ (Suvendu Adhikari)।
ভিআইপি কার্ড ও বিশেষ লেন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Suvendu Adhikari)
ভিআইপি কার্ড বিলি এবং অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে আলাদা লেন তৈরির ব্যবস্থাও পর্যালোচনার আওতায় আসবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। তবে গোটা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে সময় লাগবে। আগামী বছর থেকে নিরাপত্তার পরিকল্পনায় আরও উন্নতি আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। উৎসবের আনন্দ যেন কোনওভাবেই মানুষের জীবনের ঝুঁকির কারণ না হয়ে ওঠে, সেই দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: South 24 Parganas: আট মাসের ব্যবধানে ফের নাজিরাবাদের মোমো গোডাউনে আগুন!
তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
চোরবাগানের ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য গাফিলতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন, তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে তা প্রকাশ্যে আনা হবে। ফলে তদন্তে কী উঠে আসে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি চিহ্নিত হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা, আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং আগামী বছরের পুজোয় নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। তবে এই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের উপর।



