Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর ক্ষমতা আরও এক দশক ধরে রাখতে পারেন—এই পথ দীর্ঘদিন আগেই খুলে গিয়েছে সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে (Xi Jinping Retirement)। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ এবং আচরণে এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, তিনি কি ধীরে ধীরে ক্ষমতার মঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
নজিরবিহীন ক্ষমতাবণ্টনের সিদ্ধান্ত (Xi Jinping Retirement)
২০১২ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব এবং ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শি জিনপিং (Xi Jinping) ছিলেন একাধিপত্যের প্রতীক (Xi Jinping Retirement)। দল, সরকার এবং সেনা—তিন ক্ষেত্রেই অদ্বিতীয় নিয়ন্ত্রণ তৈরি করেছিলেন তিনি। মাও জে দংয়ের পরে সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা হিসেবেই শি-র অবস্থান।
তবে এখন চিত্রটা খানিকটা ভিন্ন। সম্প্রতি শি সরকারি ও দলীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই প্রতিষ্ঠানগুলির অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং নিয়ম পুনর্গঠনের নির্দেশ এসেছে তাঁর তরফ থেকেই। যাঁর কাছে আগে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাঁর পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ‘অভূতপূর্ব’ বলেই উল্লেখ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
ব্রিক্সে অনুপস্থিতি—সিগন্যাল কি? (Xi Jinping Retirement)
এই জল্পনার পারদ আরও চড়ায় ব্রাজ়িলে সদ্যসমাপ্ত ব্রিক্স সম্মেলনে জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি (Xi Jinping Retirement)। সেই সম্মেলনে সাধারণত নিয়মিত হাজিরা দেন শি। কিন্তু এবার তাঁর জায়গায় পাঠানো হয়েছে চিনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-কে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শি-র অনুপস্থিতি নিছক সময়াভাবে নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে।

২০২৭ এবং তার আগে… (Xi Jinping Retirement)
শি-র তৃতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালে। ওই বছরই হবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পার্টি কংগ্রেস(Xi Jinping Retirement)। অনেকের মতে, সেই সময়ের দিকে তাকিয়েই আজ থেকেই শুরু হচ্ছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি। যাতে হঠাৎ করে ক্ষমতা বদলে দলের মধ্যে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্যই এই ধরণের দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার এখনই চালু করা হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলার কৌশল (Xi Jinping Retirement)
তবে অন্য একটি বিশ্লেষক গোষ্ঠী এই জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলছে, এটি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত নয়, বরং প্রয়োজনের খাতিরে বিকেন্দ্রীকরণ মাত্র। আজকের চিন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। আবাসন শিল্প ধসে পড়েছে, কোভিড পরবর্তী অর্থনীতিও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়নি (Xi Jinping Retirement)।

উপরন্তু আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক চাপ শি সরকারকে বহু দিক সামলাতে বাধ্য করছে। তাই এই বিকেন্দ্রীকরণ আসলে সংকট মোকাবিলার কৌশল। এক তৃতীয় বিশ্লেষক দল আবার বলছেন, শি আসলে এখন ব্যস্ত কিছু বড় পরিকল্পনা নিয়ে। তাই নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ অন্যদের হাতে দিয়ে তিনি নিজে সময় দিচ্ছেন কৌশলগত বিষয়গুলিতে—যেমন, দক্ষিণ চিন সাগর, তাইওয়ান নীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি বা ডিজিটাল জাসপতি প্রজেক্ট।
সবমিলিয়ে, শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও কৌশলিক অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা-প্রত্যাশা-ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবই সমান্তরালভাবে চলছে(Xi Jinping Retirement)। তিনি সত্যিই কি বিদায়ের পথে, নাকি এক নতুন কৌশল নিয়ে সামনে আসছেন, তার উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে একথা নিশ্চিত যে, চিনের রাজনৈতিক মঞ্চে এখন নিঃশব্দে বড় রদবদলের প্রস্তুতি চলছে।


