Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ক্যালসিয়ামের একমাত্র উৎস হলো দুধ ও দুধজাত খাবার (Calcium-rich fruits)— যেমন দই, ছানা বা পনির। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি আমাদের এমন অনেক ফল উপহার দিয়েছে, যেগুলো ক্যালসিয়ামে ভরপুর এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সহজেই যোগ করা যায়। ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য এক অপরিহার্য খনিজ। শুধু হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করাই নয়, বরং পেশির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখা এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কেন ক্যালসিয়াম দরকার (Calcium-rich fruits)
- শৈশব ও কৈশোরে হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন সুদৃঢ় করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের মধ্যে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে।
- দাঁতের এনামেল রক্ষা করে, ফলে দাঁত থাকে শক্ত ও ক্ষয়রোধী।
- স্নায়ুতন্ত্রের বার্তা প্রেরণ এবং পেশির সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে।
- হৃদপিণ্ডের ছন্দ স্বাভাবিক রাখতেও ক্যালসিয়ামের অবদান রয়েছে।
- কোন ফল খেলেই শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়

ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ ৫টি ফল (Calcium-rich fruits)
কমলা
কমলাকে আমরা সাধারণত ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস হিসেবে চিনি (Calcium-rich fruits)। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গেই কমলায় ক্যালসিয়ামও রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে। প্রতি ১০০ গ্রাম কমলায় প্রায় ৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। নিয়মিত কমলা খেলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়।
ডুমুর
তাজা বা শুকনো— দুই রকম ডুমুরেই ক্যালসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে। বিশেষ করে শুকনো ডুমুরে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ১৬২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম রয়েছে। এটি কেবল হাড় মজবুত করতেই নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হজমশক্তি উন্নত করতেও কার্যকর।
স্ট্রবেরি
লালচে আকর্ষণীয় ফল স্ট্রবেরি ভিটামিন সি-এর পাশাপাশি ক্যালসিয়ামেরও ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম স্ট্রবেরিতে প্রায় ১৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এটি দাঁত ও হাড়কে শক্ত করার পাশাপাশি ত্বককে উজ্জ্বল রাখতেও সাহায্য করে।
পেয়ারা
পেয়ারা ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার হলেও ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। পেয়ারাতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, যা দাঁত ও হাড়কে শক্ত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া পেয়ারার আঁশ হজমে সাহায্য করে।
কিউই
কিউইতে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৩৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন সি ও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি শরীরের প্রদাহ কমায়, হাড় শক্ত করে এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

ফল খাওয়ার উপকারিতা (Calcium-rich fruits)
১. হাড় ও দাঁতের সুরক্ষা
নিয়মিত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ ফল খেলে হাড় ক্ষয়জনিত রোগ (অস্টিওপোরোসিস) প্রতিরোধ করা যায় এবং দাঁত মজবুত থাকে।
২. পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা
ক্যালসিয়াম পেশির সংকোচন ও প্রসারণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। ফলে শরীর থাকে সক্রিয় ও সতেজ।
৩. হৃদপিণ্ডের সুরক্ষা
এটি হৃদপিণ্ডের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া
শরীরে কোনো ক্ষত হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ক্যালসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Singur Nurse Death: নন্দীগ্রামের নার্স দীপালি জানার রহস্য মৃত্যু, ময়নাতদন্ত নিয়ে বিতর্ক!
৫. শিশু ও বয়স্কদের জন্য সমান প্রয়োজনীয়
শিশুদের জন্য হাড়ের বৃদ্ধি এবং বয়স্কদের জন্য হাড়ের ক্ষয় রোধ— দুই ক্ষেত্রেই এই খনিজ কার্যকর।


