Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতে নির্মিত দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল অগ্নি–৫–এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে আবারও দৃঢ় হলো দেশের কৌশলগত প্রতিরোধ শক্তি(Agni 5 Ballistic Missile)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ওডিশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর), চাঁদিপুর থেকে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (এসএফসি)–এর তত্ত্বাবধানে বুধবার রাতে উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি সমস্ত অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল প্যারামিটার সফলভাবে সম্পূর্ণ করে। প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইআরবিএম) ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে শক্ত স্থান পেল।
পরীক্ষার স্থান ও পদ্ধতি (Agni 5 Ballistic Missile)
চাঁদিপুরের আইটিআর থেকে মোবাইল লঞ্চার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অগ্নি–৫ উৎক্ষেপণ করা হয়। মোবাইল লঞ্চারের সুবিধা হলো— উৎক্ষেপণস্থল দ্রুত বদলানো যায়, বিচ্ছিন্নভাবে মোতায়েন করা যায়, ফলে শত্রুপক্ষের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে সারপ্রাইজ ও সারভাইভেবিলিটি নিশ্চিত হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ভাষ্যে, পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল টার্গেটিং অ্যাক্যুরেসি, ফ্লাইট প্রোফাইল, গাইডেন্স ও কন্ট্রোল, স্টেজ সেপারেশন–সহ প্রধান সূচকগুলির পারফরম্যান্স যাচাই করা—যা প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্জিত হয়েছে।
তিন ধাপের কঠিন জ্বালানি, নিখুত লক্ষ্য় (Agni 5 Ballistic Missile)
অগ্নি–৫–এর প্রপালশন সিস্টেম তিন-ধাপের সলিড-ফুয়েল রকেট—যা রক্ষণাবেক্ষণে সহজ, দ্রুত প্রস্তুতিযোগ্য এবং মোতায়েনের সময়ে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন পড়ে না(Agni 5 Ballistic Missile)। অ্যাডভান্সড গাইডেন্স ও ন্যাভিগেশন সিস্টেম–এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটির টার্গেটিং অ্যাক্যুরেসি উচ্চমানের; সামরিক কৌশলে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কম সময়ের নোটিশে লঞ্চ করা সম্ভব—ফলে দেশের সেকেন্ড-স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়।

গোটা এশিয়ার, ইউরোপের আংশিক আঘাতে সক্ষম (Agni 5 Ballistic Missile)
৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম অগ্নি–৫ এশিয়ার প্রায় সমগ্র অংশ—উত্তর চীনের বিস্তৃত অঞ্চল—এমনকি ইউরোপেরও অংশবিশেষকে কভারেজ–এর আওতায় আনে(Agni 5 Ballistic Missile)। এই ভৌগোলিক পরিসর ভারতের ডিটারেন্স পোস্টার–কে বহুগুণে শক্তিশালী করে, কারণ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কৌশলগত সম্পদ ও অবকাঠামো এর প্রভাবক্ষেত্রের মধ্যে চলে আসে।
সংঘর্ষ-উত্তর বার্তা ও সক্ষমতার ধারাবাহিকতা (Agni 5 Ballistic Missile)
এই উৎক্ষেপণটি পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের প্রায় সাড়ে তিন মাস পরে অনুষ্ঠিত হলো(Agni 5 Ballistic Missile)। ফলে বার্তাটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, কূটনৈতিক ও কৌশলগতও—ভারত এস্কালেশন কন্ট্রোল বজায় রেখেই প্রতিরোধ–ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। তারও আগে, গত বছরের মার্চে অগ্নি–৫–এর পূর্ববর্তী পরীক্ষা সফল হয়েছিল। ধারাবাহিক এই সাফল্য দেশের ডিফেন্স আরঅ্যান্ডডি, ইন্টিগ্রেশন ও অপারেশনাল রেডিনেস–এর সামর্থ্যকে স্পষ্ট করে।

আরও পড়ুন : ISRO : ৭৫,০০০ কেজি পেলোড বহনে সক্ষম রকেট বানাচ্ছে ইসরো,জানালেন চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন
অগ্নি সিরিজে অগ্নি–৫–এর অবস্থান (Agni 5 Ballistic Missile)
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অন্যতম স্তম্ভ অগ্নি সিরিজ। এর মধ্যে—
- অগ্নি–১: ৭০০–৯০০ কিমি পাল্লা; ১,০০০ কেজি পে–লোড বহনে সক্ষম।
- অগ্নি–২: ২,০০০ কিমি পর্যন্ত পাল্লা।
- অগ্নি–৩: প্রায় ৩,০০০ কিমি পাল্লা।
- অগ্নি–৪: ৩,৫০০ কিমি পাল্লা।
এই ধারায় অগ্নি–৫ সর্বাধিক দূরপাল্লার, যা ভারতের স্ট্র্যাটেজিক ট্রায়াড–এ স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র অংশের লং-রেঞ্জ ব্যাকবোন হিসেবে বিবেচিত।
সাম্প্রতিক অন্যান্য পরীক্ষা ‘প্রিথ্বী–২’, ‘অগ্নি–১’ ও ‘প্রলয়’ (Agni 5 Ballistic Missile)
অগ্নি–৫–এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত প্রিথ্বী–২ ও অগ্নি–১–এর মতো নিউক্লিয়ার–ক্যাপেবল শর্ট–রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল–এরও সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে(Agni 5 Ballistic Missile)। প্রিথ্বী–২–এর পাল্লা ৩৫০ কিমি, পে–লোড সর্বোচ্চ ৫০০ কেজি; অন্যদিকে অগ্নি–১ ৭০০–৯০০ কিমি দূরত্বে ১,০০০ কেজি পে–লোড নিয়ে আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে, নতুন ট্যাকটিক্যাল সারফেস–টু–সারফেস মিসাইল ‘প্রলয়’–এর পরীক্ষাও হয়েছে—যা ৫০০–১,০০০ কেজি ওজনের কনভেনশনাল ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং স্বল্প পাল্লার নির্ভুল প্রিসিশন–স্ট্রাইক কাজে নকশা করা হয়েছে। কৌশলগতভাবে, ‘প্রলয়’ সীমিত যুদ্ধক্ষেত্রে টাইম–ক্রিটিক্যাল টার্গেট ধ্বংসে সেনাবাহিনীকে দ্রুত বিকল্প দেয়।
অপারেশনাল তাৎপর্য, ডিটারেন্স থেকে ডিপ্লয়মেন্ট (Agni 5 Ballistic Missile)
অগ্নি–৫–এর উচ্চ নির্ভুলতা, মোবাইল লঞ্চ সক্ষমতা এবং দ্রুত প্রস্তুতি—এই তিনটি স্তম্ভ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে শুধু পরীক্ষাগারে নয়, ফিল্ড ডিপ্লয়মেন্ট–এও অত্যন্ত কার্যকর করে তোলে(Agni 5 Ballistic Missile)। ভারত(DRDO) নো–ফার্স্ট–ইউজ (এনএফইউ)–ভিত্তিক পারমাণবিক নীতি অনুসরণ করলেও, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও প্রত্যুত্তরমূলক ক্ষমতা (credible second-strike) গড়ে তোলা—এবং তা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা—ডিটারেন্সের মূল সুর। অগ্নি–৫ সেই সক্ষমতার সিগন্যাল ভ্যালু বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা (Agni 5 Ballistic Missile)
এই উৎক্ষেপণের সাথে যুক্ত রয়েছে ফ্লাইট কম্পিউটার, ইনর্শিয়াল ন্যাভিগেশন, স্যাটেলাইট–এইডেড আপডেট, থ্রাস্ট–ভেক্টর কন্ট্রোল–সহ একাধিক উপ–ব্যবস্থার সমন্বিত কাজ(Agni 5 Ballistic Missile)। প্রতিটি ধাপে স্টেজ সেপারেশন–এর নিখুঁততা এবং মিড–কোর্স গাইডেন্স–এর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত না হলে লক্ষ্যভেদে বিচ্যুতি ঘটতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য মতে, এই পরীক্ষায় ডিজাইন লক্ষ্যমাত্রা, নিরাপত্তা প্রোটোকল ও রেঞ্জ সেফটি–সহ সবকিছু মান্য হয়েছে—যা ভবিষ্যৎ সিরিজ–ডেলিভারি ও দীর্ঘমেয়াদি লাইফ–সাইকেল সাপোর্ট–এ আস্থা জোগায়।
আঞ্চলিক বার্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত (Agni 5 Ballistic Missile)
এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে নিরাপত্তা সমীকরণ ক্রমে পরিবর্তিত হচ্ছে(Agni 5 Ballistic Missile)। এই প্রেক্ষাপটে অগ্নি–৫–এর সক্ষমতা—যা এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল এবং ইউরোপের অংশ বিশেষ–কে আওতায় আনে—ভারতের কম্প্রিহেনসিভ ন্যাশনাল পাওয়ার–এর অংশ হিসেবে ডিটারেন্স ব্যালান্স বজায় রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ–শক্তি প্রদর্শন করা—এবং তা দায়িত্বশীল নীতি–চর্চা–এর সাথে সমন্বয় করা—ভারতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার আবশ্যিক উপাদান।
সক্ষমতা ধরে রাখা ও আধুনিকীকরণ (Agni 5 Ballistic Missile)
সফল উৎক্ষেপণের পর মূল চ্যালেঞ্জ সাস্টেইন্ড রেডিনেস বজায় রাখা—অর্থাৎ ক্রু–ট্রেনিং, লজিস্টিক সাপোর্ট, মেইনটেন্যান্স সাইকেল ও নেটওয়ার্ক–সেন্ট্রিক ইন্টিগ্রেশন। পাশাপাশি, টেস্ট–ভ্যালিডেট–ডিপ্লয়–এর নিয়মিত চক্র বজায় রাখলে অপারেশনাল অ্যাভেলেবিলিটি উঁচু থাকবে এবং কৌশলগত বার্তাও স্পষ্ট হবে। অগ্নি–৫–এর তিন–ধাপের কঠিন জ্বালানি, উচ্চ নির্ভুলতা, মোবাইল লঞ্চ—এই ত্রয়ী ভারতের পারমাণবিক ডিটারেন্স–কে যুগোপযোগী রেখেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি–উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করবে।
অগ্নি-5 এর ক্ষমতা (Agni 5 Ballistic Missile)
- ধরন: ইন্টারমিডিয়েট–রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইআরবিএম)
- পাল্লা: সর্বোচ্চ ৫,০০০ কিমি
- লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম: মোবাইল লঞ্চার, আইটিআর চাঁদিপুর
- পে–লোড: নিউক্লিয়ার–ক্যাপেবল
- নির্ভুলতা: উন্নত গাইডেন্স/ন্যাভিগেশন, উচ্চ প্রিসিশন
- কভারেজ: এশিয়ার অধিকাংশ ও ইউরোপের অংশ বিশেষ
- প্রপালশন: তিন–ধাপের সলিড–ফুয়েল
- কৌশলগত ভূমিকা: ভারতের নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স–এর মূলস্তম্ভ
অগ্নি–৫–এর এদিনের সাফল্য শুধু একটি উৎক্ষেপণ নয়; এটি ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কৌশলগত প্রস্তুতি ও নীতি–নিষ্ঠ প্রতিরোধ–দর্শন–এর পুনর্ব্যক্তি—যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা–সমীকরণে দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তুলল।


