Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ আবারও খবরের শিরোনামে (LGBTQ)। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সেখানে প্রকাশ্যে ২ জন পুরুষকে সমকামী সম্পর্কের অভিযোগে ৭৬ বার করে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সমকামিতা জাতীয়ভাবে কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু একমাত্র আচেহ প্রদেশে কঠোর শরিয়া আইন কার্যকর। আর সেই আইনেই ঘটল এই নির্মম শাস্তি।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত? (LGBTQ)
- গত এপ্রিল মাসে প্রাদেশিক রাজধানী বান্দা আচেহ-এর তামান সারি সিটি পার্কে এই দুই যুবককে প্রথম ধরা হয়।
- স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন যে, পার্কের একটি জনসাধারণের শৌচাগারে দুই জন পুরুষ একসঙ্গে প্রবেশ করছেন।
- সন্দেহ হলে তাঁরা খবর দেন টহলরত “শরিয়া পুলিশ”-কে
- পুলিশ গিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলে যুবকদ্বয়কে, যারা তখন চুম্বন ও আলিঙ্গনে লিপ্ত ছিলেন।
শরিয়া আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা একে অপরের সঙ্গে একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপ-এর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। কয়েক দফা গোপনে দেখা করার পর শেষমেশ সেই পার্কেই ধরা পড়েন।
আদালতের রায় ও শাস্তি! (LGBTQ)
শরিয়া আদালত অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেয়।
- প্রথমে শাস্তি নির্ধারিত হয় ৮০ বেত্রাঘাত।
- কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী আটক অবস্থায় চার মাস থাকার কারণে ৪ বার বেত্রাঘাত কমানো হয়।
- তাই মঙ্গলবার প্রত্যেককে ৭৬ বার করে বেত্রাঘাত করা হয়।
শাস্তি কার্যকর হয় জনসমাগমস্থ পার্কে, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক ও কয়েক ডজন স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কোন অপরাধে শাস্তি! (LGBTQ)
সেদিন ওই দুই পুরুষ ছাড়া আরও ৮ জনকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়—
- ব্যভিচার
- জুয়া খেলা
আচেহ প্রদেশে এরকম প্রকাশ্য শাস্তি নিয়মিত। শরিয়া কোড অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০০ বেত্রাঘাত দেওয়া যায় বিভিন্ন “নৈতিক অপরাধে।” এর মধ্যে রয়েছে:
- বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক
- সমকামী যৌনতা
- জুয়া খেলা
- মদ্যপান
- আঁটসাঁট পোশাক পরা
- পুরুষদের জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকা
আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন! (LGBTQ)
আচেহ প্রদেশের শরিয়া আইন ইন্দোনেশিয়ার অন্য কোনো অঞ্চলে কার্যকর নয়।
- ২০০১ সালে, দীর্ঘকালীন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার আচেহকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেয়।
- এর ফলেই ২০০৬ সাল থেকে সেখানে শরিয়া আদালত ও ধর্মীয় পুলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- শুরুতে আইন শুধু মুসলমানদের জন্য ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে শরিয়া কোড অমুসলিমদের ওপরও প্রযোজ্য করা হয়। যদিও অমুসলিম জনসংখ্যা আচেহতে মাত্র ১ শতাংশ।
অতীতের এর উদাহরণ মেলে!
- ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রকাশ্যে সমকামী সম্পর্কের দায়ে দুজন পুরুষকে ৮৩ বার বেত্রাঘাত করা হয়।
- এর পর থেকে অন্তত আরও চারটি ঘটনায় একই ধরনের শাস্তি কার্যকর হয়েছে।
- প্রায় প্রতি বছরই ব্যভিচার, মদ্যপান ও জুয়ার দায়ে ডজনখানেক মানুষ বেত্রাঘাতের শাস্তি পান।
মানবাধিকার সমস্যা! (LGBTQ)
জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ—সবাই এই শাস্তির তীব্র সমালোচনা করেছে।
- তাঁদের মতে, প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত হলো নির্মম, অমানবিক ও অপমানজনক শাস্তি।
- একই সঙ্গে সমকামী সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছে আন্তর্জাতিক মহল।
- জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার বহুবার ইন্দোনেশিয়া সরকারের কাছে আবেদন করেছেন এই প্রথা বন্ধ করার জন্য।
কিন্তু আচেহ সরকার যুক্তি দেয় যে, শরিয়া আইন কার্যকর করার অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ।
সমাজের ভেতরের চিত্র!
ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে সমকামী সম্পর্ক অপরাধ নয়, কিন্তু আচেহতে তার সামাজিক শাস্তি ভয়াবহ।
- স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তি দিলে সমাজে “অপরাধ কমে যায়।”
- আবার অন্যদিকে, অনেক তরুণ-তরুণী মনে করেন, শরিয়া পুলিশের ভয়াবহ ক্ষমতার কারণে ভয়, গোপনীয়তা ও দ্বিচারিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
- বিশেষ করে LGBTQ সম্প্রদায় আচেহতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। অনেকেই অন্য প্রদেশে পালিয়ে যান।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব
এই ধরনের শাস্তির খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ইন্দোনেশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও আচেহ প্রদেশের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ইন্দোনেশিয়া সরকারকে মোকাবিলা করতে হয়।
- তবে কেন্দ্রীয় সরকার আচেহ প্রদেশের শরিয়া আইন বাতিল করতে পারে না, কারণ স্বায়ত্তশাসন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেখানে আইন প্রণয়নের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Health tips: বিড়াল শুধু আদরের নয়, স্বাস্থ্য রক্ষারও সঙ্গী
আচেহর এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতন্ত্রের ভেতরে একটি প্রদেশ কীভাবে মধ্যযুগীয় শাস্তি আজও চালু রেখেছে। প্রশ্ন উঠেছে…
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও যৌন পছন্দকে কীভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায়?
- মানবাধিকার ও ধর্মীয় আইন—এই সংঘাতের সমাধান কোথায়?



