Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারতে মার্কিন দূতাবাস রবিবার এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করে ভারত-মার্কিন “অটুট বন্ধুত্ব”-এর প্রশংসা করেছে(India US Relations)। তবে এই বার্তার সময় বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে। কারণ ঠিক সেই সময়েই সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন। শুধু তাই নয়, বৈঠকের আগে দুই রাষ্ট্রনেতাকে জড়িয়ে ধরা এবং একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছে, যা কূটনৈতিকভাবে বিরল দৃশ্য।
“২১শ শতকের সংজ্ঞায়িত সম্পর্ক” বলছে ওয়াশিংটন (India US Relations)
মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় লেখা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অংশীদারিত্ব ক্রমাগত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে—২১শ শতকের সংজ্ঞায়িত সম্পর্ক এটিই(India US Relations)। এই মাসে আমরা মানুষ, অগ্রগতি ও সম্ভাবনার গল্প তুলে ধরছি যা আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই আমাদের জনগণের বন্ধুত্বই এই যাত্রার জ্বালানি।”
পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও শেয়ার করা হয় যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য তুলে ধরা হয়: “আমাদের জনগণের বন্ধুত্বই সহযোগিতার ভিত্তি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিশাল সম্ভাবনা বাস্তবায়নে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”
মোদি–পুতিন–শি একই ফ্রেমে (India US Relations)
এই বার্তা আসে এমন সময়ে, যখন SCO সম্মেলনের প্রাঙ্গণে বিরল এক কূটনৈতিক মুহূর্ত ধরা পড়ে(India US Relations)। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে হেঁটে কথা বলতে দেখা যায়। নিজেই সেই ছবি এক্স-এ শেয়ার করেন মোদী এবং লেখেন—“SCO সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে মতবিনিময়।”
এর আগে পুতিন ও মোদীকে একই সঙ্গে একটি অরাস সেডানে রিটজ-কার্লটন হোটেলে পৌঁছতে দেখা যায়। বৈঠক শেষে মোদী সেই আলোচনাকে “গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন : SCO Summit In China : ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত ও চিনের প্রশংসা রুশ প্রেসিডেন্টের! একই গাড়িতেও চাপলেন মোদি পুতিন
ভারত–রাশিয়া সম্পর্কের দৃঢ়তা(India US Relations)
বিশ্লেষকরা বলছেন, SCO সম্মেলনের মঞ্চে ভারত–রাশিয়া ঘনিষ্ঠতার প্রকাশ এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত(India US Relations)। বিশেষত এমন সময়ে যখন মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলির দৃষ্টি থাকছে ভারতের উপর।
আমেরিকার ‘সময়চয়িত’ বার্তা
মার্কিন বার্তাটিকে তাই অনেকেই কূটনৈতিক ‘টাইমিং’ হিসেবে দেখছেন। একদিকে যখন মোদী–পুতিন ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম, অন্যদিকে তখনই ভারত–মার্কিন বন্ধুত্বের প্রশংসা প্রচার করছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন : SCO Summit 2025 : এসসিও সম্মেলনে পাহলগাম জঙ্গি হামলার নিন্দা, বড় কূটনৈতিক জয় ভারতের
বাণিজ্যিক চাপ ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট(India US Relations)
এই প্রেক্ষাপটে মনে রাখা জরুরি, আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভারতীয় রপ্তানির উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে(India US Relations)। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখা। তার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ সার্বজনীন শুল্ক এবং চীন-নির্দিষ্ট আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করেছে। এসব কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে এবং SCO-তে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনর্ব্যক্ত করার প্রেক্ষাপট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিয়ানজিনে SCO বৈঠকের প্রেক্ষিতে আমেরিকার বার্তা কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বটে। একদিকে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ভারতের উষ্ণ মুহূর্ত, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের কৌশলগত মিত্রতার বার্তা—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।


