Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজো মানেই বাঙালির কাছে এক (Bangladeshi Hilsa) আবেগের নাম। আর সেই উৎসবের খুশিতে ইলিশ না থাকলে যেন জমে না ভাদ্র সংক্রান্তি কিংবা অরন্ধন। তবে এ বার সেই ইলিশ-আনন্দে জল ঢালতে পারে সীমিত জোগান ও বাড়তি দাম। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে পদ্মার ইলিশ ভারতে আসবে ঠিকই, তবে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মৎস্য ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতার কপালে।
হতাশ পশ্চিমবঙ্গের বাজারের বড় ব্যবসায়ীরা (Bangladeshi Hilsa)
চলতি বছর বাংলাদেশ প্রথমে ৩,০০০ টন ইলিশ রফতানির (Bangladeshi Hilsa) প্রতিশ্রুতি দিলেও, শেষ পর্যন্ত তা নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১,২০০ টনে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ২০২৩ সালে প্রায় ২,৪২০ টন ইলিশ এসেছিল ভারতে, যদিও তখনও প্রথমে ৩,০০০ টনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এ বছরের এই হ্রাসপ্রাপ্ত রফতানি নিয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের বাজারের বড় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে দাম আকাশছোঁয়া হবে, এবং পুজোর আগে সাধারণ মানুষ অনেকটাই বঞ্চিত হবেন ‘পদ্মার স্বাদ’ থেকে।
রফতানিতে কাটছাঁট কেন (Bangladeshi Hilsa)
ঢাকার বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো (Bangladeshi Hilsa) হয়েছে, এ বছর বরিশাল বিভাগে ইলিশের উৎপাদন জুন মাসে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭,০০০ টন কমেছে। জুলাইয়েও ঘাটতির হার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই রফতানিতে কাটছাঁট করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ইলিশের চাহিদা তুঙ্গে
আগামী সপ্তাহেই ভাদ্র সংক্রান্তি। প্রতি বছর এই সময় বাজারে ইলিশের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। কিন্তু এ বছর বাংলাদেশ থেকে জোগান কম থাকায় কলকাতা-সহ জেলার পাইকারি বাজারে দাম এখন থেকেই চড়া। ১.১ থেকে ১.৩ কেজি ওজনের ইলিশের দাম গত বছর যেখানে ছিল কেজিপ্রতি ১,৬০০ থেকে ২,০০০ টাকা, সেখানে এবার তা ২,৫০০ ছুঁয়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা মৎস্য দফতরের আধিকারিকদের।

পুরো চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়
বাংলার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও ইলিশের জোগান কম। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও হাওড়ায় স্থানীয়ভাবে ধরা ইলিশের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক মৎস্যজীবী সংগঠনের দাবি, বড় মাপের ইলিশের শিকার প্রায় ৩৫–৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে কিছুটা ভরসা দিয়েছে গুজরাত। সেখানে থেকে এ বছর প্রায় ৪,৫০০ টন ইলিশ বাংলায় এসেছে বলে জানিয়েছে রাজ্য মৎস্য দফতর। কিন্তু তাতেও পুরো চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: Dating App: ডিজিটাল যুগে বদলেছে ভালোবাসার ভাষা, সম্পর্ক গড়ার ভরসা এখন ডেটিং অ্যাপ
‘ইলিশ কূটনীতি’র পুরনো নজির থাকলেও, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এ বার সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ ফেলেছে। হাসিনা সরকারের সময় যেখানে ইলিশ পাঠানো হত একপ্রকার সৌজন্য রফতানি হিসেবে, সেখানে ইউনূস সরকারের নীতিতে এসেছে পরিবর্তন। সব মিলিয়ে এবার পুজোয় পদ্মার ইলিশ পাতে তুলতে গেলে ক্রেতাকে পকেট ভালোভাবেই ফাঁকা করতে হবে-এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে বাজার।


