Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সারদা চিটফান্ড মামলায় বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে (Rajeev Kumar) ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া আগাম জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই দারস্থ হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গবাই এবং এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে সোমবার ৬ বছর পর এই মামলাটির শুনানি হয়। সিবিআই এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। ‘৬ বছর ধরে আপনারা কী করছিলেন? কেন জিজ্ঞাসাবাদ করেননি?- প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। হয়রানি এবং সম্মানহানি করতেই এই মামলা বলে দাবি রাজীব কুমারের আইনজীবীর। এই বাংলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্য সরকার বলে সুপ্রিম কোর্টে দাবি সলিসিটর জেনারেলের। আগামী শুক্রবার আদালত অবমাননা মামলার শুনানি হবে।
প্রশ্নের মুখে সিবিআই (Rajeev Kumar)
সোমবার মামলার শুরুতেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ে সিবিআই (Rajeev Kumar)। সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন,’ ছয় বছর পর কেন এলেন?’ তার উত্তরে সলিসিটর জেনারেল আদালত কে বলেন, ‘এত বছর পর আগাম যাই জামিন নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। তবে শুধু আগাম জামিন নয়, আমাদের অফিসারদের প্রতিক্ষেত্রে তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা চাই আগে আদালত অবমাননার শুনানি হোক।’ তখন প্রধান বিচারপতি সিবিআই-এর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা নোটিশ ইস্যু করেছিলাম। ৬ বছর ধরে আপনারা কি করছিলেন?’ তার উত্তরে সিবিআই বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলে, ‘বিষয়টি শুধু জামিনে আটকে নেই। এই মামলার আসল প্রতিদ্বন্দ্বী হল রাজ্য সরকার।’

এদিন আদালতে রাজিব কুমারের আইনজীবী অভিযোগ করেন সম্মানহানির জন্যই সিবিআই এই সমস্ত কিছু করছে। রাজীব কুমারের আইনজীবী বলেন, ‘তদন্তে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। গত ছয় বছরে তারা একবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেনি। শুধুমাত্র হয়রানি এবং সম্মানহানি করার জন্যই সিবিআই এই মামলা করেছে।’
সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ (Rajeev Kumar)
গত ৬ বছরে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি (Rajeev Kumar) বলেন, ‘গত ৬ বছর ধরে আপনারা কী করেছেন? কেন গত ৬ বছরে তদন্তের প্রয়োজনে ডাকেননি। কী করেছেন এত দিন? এতদিন ধরে কি আমরা মামলা বিচারাধীন রাখব? তাহলে মামলাটি রাখার দরকার কী? মঙ্গলবার আদালত অবমাননা মামলার শুনানি হোক, না হলে আমরা মামলা খারিজ করে দেব।’ তার উত্তরে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদলতকে বলেন, ‘কেন ৬ বছর ধরে মামলা ঝুলে রয়েছে, তার পুরো বিষয়টা আপনি শুনলে অবাক হবেন। এই মামলায় একাধিক গুরুতর বিষয়ে রয়েছে।’ সম্পর্কে বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি জানান আগামী শুক্রবার আদালত অবমাননার শুনানি হবে।

আর কোনও শুনানি হয়নি (Rajeev Kumar)
২০১৯ সালের ১ অক্টোবর বিধান নগরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার (Rajeev Kumar) রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছিল হাইকোর্ট। তিন দিনের মধ্যে ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। সেই বছরের ২৫ এবং ২৯ নভেম্বর মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। দ্বিতীয় শুনানির দিন রাজীবকে নোটিস জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। সে বছর ২০ ডিসেম্বর শীর্ষ আদালতের নোটিস পান রাজীব। এর পরে এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি আবেদন জমা পড়ে আদালতে। কিন্তু আর কোনও শুনানি হয়নি।
প্রথম তদন্ত শুরু… (Rajeev Kumar)
সারদা চিটফান্ড মামলায় প্রথম তদন্ত শুরু করে রাজ্য সরকারের গঠিত (Rajeev Kumar) বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সেই সিটের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিধাননগরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব। ২০১৪ সালে সুপ্রিমকোর্ট এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দেয়। তদন্তে নেমে সিবিআই অভিযোগ করে, রাজীব কুমার তদন্তে সহযোগিতা করছেন না এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি এবং প্রমাণ নষ্ট করেছেন। সিবিআই এর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে রাজীব কুমার আদালতে দাবি করেন, তিনি তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করেছেন। সেই তদন্তে সিবিআই রাজিব কুমারকে মেঘালয়ের শিলংয়ে পাঁচ দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে কলকাতাতে সিবিআইয়ের দফতরেও হাজিরা দেন রাজিব কুমার। তারপরই তাঁকে হেফাজতে নিতে পদক্ষেপ শুরু করে সিবিআই।
অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট রাজীব কুমারকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দেয়। পরে ওই বছরের মে মাসেই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেয় আদালত। তবে শীর্ষ আদালত জানায়, রাজীব কুমার চাইলে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারবেন। তারপরই আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন রাজীব কুমার। জামিনের বিরোধিতা করে সিবিআই আদালতে অভিযোগ করে, তদন্তে সহযোগিতা না করে রাজীব কুমার ইচ্ছাকৃত ভাবে তদন্তে দেরি করছেন। তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাঁর জামিন হলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। রাজীব কুমারের আইনজীবী আদালতে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, তিনি প্রতিক্ষেত্রে তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাই হেফাজতে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি এবং বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলে, মামলাকারী রাজীব কুমারকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: Mounjaro: মাত্র ৬ মাসে বিপুল চমক! ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ভারত কাঁপাচ্ছে মুঞ্জারো
তাই তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে আদালত মনে করছে। তাই আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে তাঁকে সিবিআই তদন্তে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পেলে সিবিআই-এর কাছে হাজিরা দিতে হবে। ওই সব শর্ত লঙ্ঘন করলে সিবিআই জামিন বাতিলের আবেদন করতে পারবে। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। ৬ বছর পর সোমবার সেই মামলারই শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে।


