Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জগদ্ধাত্রী নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর মহিমা (Krishnanagar Jagaddhatri Puja)। ‘জগৎকে ধারণ করেন যিনি’, তিনিই জগদ্ধাত্রী। হিন্দু ধর্ম মতে, দেবী দুর্গার অপর এক রূপ তিনি। শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, মা দুর্গা যেমন অসুর বিনাশিনী, তেমনই জগদ্ধাত্রী হলেন ধৈর্য, সংযম ও স্থিতির প্রতীক।
পৌরাণিক ইতিহাসে দেবী জগদ্ধাত্রী (Krishnanagar Jagaddhatri Puja)
শাস্ত্র মতে, দেবী জগদ্ধাত্রী ব্রহ্ম, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তির প্রতিরূপ। ‘কঠোপনিষদ’-এ বলা হয়েছে ‘ধৈর্যং জগদ্ধাত্রি’, অর্থাৎ যিনি ধৈর্যের মাধ্যমে জগৎকে ধারণ করেন তিনিই জগদ্ধাত্রী। একটি পুরাণ কাহিনি অনুসারে, যখন দেবতারা তাঁদের অহঙ্কারে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন দেবী তাঁদের সামনে ‘জগদ্ধাত্রী’ রূপে আবির্ভূত হন এবং জানান, শক্তি ছাড়া তাঁদের অস্তিত্বই অসম্পূর্ণ। সেই থেকেই ‘জগদ্ধাত্রী’ পূজিত হন জ্ঞান, বুদ্ধি ও সংযমের দেবী হিসেবে।

কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো (Krishnanagar Jagaddhatri Puja)
জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। কারও মতে, হুগলি জেলার চন্দননগরেই প্রথম শুরু হয় এই পুজো, আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এর গোড়াপত্তন নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। ইতিহাস জানায়, ১৭৫৪ সালে নবাব আলিবর্দী খাঁ-র রাজকর দিতে না পারায় মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় কারাগারে বন্দি হন। পরে কর দেওয়ার পর মুক্তি পান তিনি। কিন্তু সে সময় দুর্গোৎসব প্রায় শেষ। মুক্তি পেয়ে ফিরে আসার পথে, জলঙ্গি নদীর ধারে দুর্গা ভাসান দেখে মন খারাপ হয়ে যায় তাঁর। সেই অবস্থায় নৌকায় ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত্রে স্বপ্নে এক কুমারী মেয়ে রূপী দেবী আবির্ভূত হয়ে জানান “আমি জগদ্ধাত্রী, জগৎকে ধারণ করি। আমার পুজো করো।” সেই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর মহারাজ ছুটে যান তান্ত্রিক কালীশঙ্কর মৈত্র-র কাছে। তাঁর নির্দেশ মতোই প্রথমবার রাজবাড়িতে জগদ্ধাত্রীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পুজোর বিশেষ রীতি ও দেবীর রূপ (Krishnanagar Jagaddhatri Puja)
রাজবাড়ির মা জগদ্ধাত্রী অন্য জায়গার তুলনায় ছোট আকারের। কারণ স্বপ্নে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে কুমারী রূপে দেখেছিলেন। এখানে দেবীকে দেখা যায় ঘোড়ক রূপী সিংহ বাহিনীতে, হাতে ত্রিশূল ও শঙ্খ। দেবীর চারপাশে থাকে অসুরদলিত রূপক চিত্র, যা প্রতীকীভাবে অহংকার ও অজ্ঞানকে দমন করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: Jagaddhatri Puja: এই পুজো কি সত্যিই চন্দননগরেই শুরু হয়েছিল? জানা আছে এর উৎস?
কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ি ও ভাসানের ঐতিহ্য
কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো হয় কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে। চন্দননগরে পুজো চলে চার দিন, কিন্তু কৃষ্ণনগরে পুজো একদিনেই সম্পূর্ণ হয়। পরদিন অর্থাৎ দশমীতে হয় ভাসান উৎসব। রাজবাড়ির ঠাকুরের বিসর্জন হয় রাজারদিঘিতে, অন্য সব ঠাকুরের বিসর্জন হয় জলঙ্গি নদীতে। ভাসানের দিন সকালেই ঘটে এক বিশেষ অনুষ্ঠান “ঘট ভাসান”, যেখানে দেবীর প্রতীকী ঘট জলঙ্গিতে বিসর্জিত হয়। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় মূল মূর্তির ভাসান উৎসব। রাজা ও রানিমা রাজবাড়ির বারান্দা থেকে ভাসান দেখতেন, আর যে ঠাকুর তাঁদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ হতো, তাঁকে পুরস্কৃত করতেন। আজও সেই ঐতিহ্য বজায় আছে ভাসানের আগে ঠাকুরদের রাজবাড়িতে নিয়ে গিয়ে প্রদর্শিত করা হয়, তারপর সেখান থেকেই যাত্রা শুরু হয় নদীর ঘাটের দিকে।



