Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের লুভর জাদুঘরে রবিবার সকালে ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা একদল মুখোশধারী দুষ্কৃতী দিনের আলোয় ‘অমূল্য’ গয়না চুরি করে পালাল (Robbery at Louvre Museum)। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, সকালেই যখন জাদুঘর পর্যটকদের জন্য দরজা খুলেছে, তখনই হঠাৎ ঘটে যায় এই চুরির ঘটনা। চুরি ধরা পড়তেই মুহূর্তে লুভর খালি করে দেওয়া হয় এবং “বিশেষ কারণবশত” সারাদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ফলে হাজার হাজার পর্যটক, বিশেষ করে ‘মোনালিসা’ দর্শনার্থীরা, হতাশ হয়ে ফিরে যান।

৪ দুষ্কৃতীর অভিযান (Robbery at Louvre Museum)
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নিউনে জানান, পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায়। চারজন চোর মিলে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালায়, দু’জন যান্ত্রিক মই (ভেহিকল-মাউন্টেড এক্সটেন্ডেবল ল্যাডার) ব্যবহার করে প্রথম তলার জানালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে, নিরাপত্তারক্ষীদের হুমকি দেয়, আর বাকি দু’জন বাইরে থেকে মোটরবাইকে সহযোগিতা করে। চোরেরা ব্যাটারি চালিত কাটার দিয়ে প্রদর্শনী কাঁচ ভেঙে গয়না তুলে নেয় এবং দ্রুত মোটরবাইকে চেপে চম্পট দেয়। পুরো অভিযান মাত্র চার থেকে পাঁচ মিনিটে সম্পন্ন হয় বলে অনুমান।
লক্ষ্য ছিল রাজকীয় গয়নার গ্যালারি (Robbery at Louvre Museum)
যে অংশটিতে হামলা হয়, সেটি হলো ‘গ্যালারি দ্য আপোলন’ (Galerie d’Apollon), যেখানে সংরক্ষিত ফ্রান্সের রাজকীয় অলংকার ও ঐতিহাসিক রত্ন। এই গ্যালারিতেই ছিল নেপোলিয়ন তৃতীয় এবং তাঁর স্ত্রী সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ব্যবহৃত গয়না। চোরেরা মোট নয়টি অলংকার নিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় তারা ইউজেনির মুকুটটি ফেলে যায়, পরে তা উদ্ধার করা হয়, কিন্তু সেটি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানা গেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতি জানান, মুকুটটি পরীক্ষা চলছে। লুভরের তথ্য অনুযায়ী, তাতে রয়েছে ১,৩৫৪টি হীরক ও ৫৬টি পান্না। চুরি হওয়া অন্য অলংকারগুলির মধ্যে ছিল, একজোড়া পান্নার দুল এবং একটি ব্রোচ, যা একসময় সম্রাজ্ঞীর প্রিয় ছিল।
চোরদের পালানোর কৌশল ব্যর্থ করতে পারল কর্মী (Robbery at Louvre Museum)
ফরাসি পুলিশ জানিয়েছে, চোরেরা পালানোর পর ব্যবহৃত মোটরবাইক ও ভ্যান পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল,
কিন্তু লুভরের এক কর্মীর উপস্থিত বুদ্ধিতে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে কেউ আহত হননি। বর্তমানে পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি ও তদন্ত চলছে।
বাস্তবের ‘ধুম’? সিনেমা ও ঘটনার আশ্চর্য মিল (Robbery at Louvre Museum)
বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ উভয়েই বলছেন, এই চুরির ধরন যেন বলিউডের ‘ধুম’ (Dhoom) সিরিজের বাস্তব সংস্করণ! ধুম (২০০৪)-এ যেমন জন আব্রাহাম মোটরবাইক গ্যাং নিয়ে শহরজুড়ে ডাকাতি চালায়, তেমনি লুভরের চোরেরাও মোটরবাইক ব্যবহার করে পালিয়েছে। ধুম ২ (২০০৬)-এর হৃতিক রোশন অভিনীত আরিয়ান চরিত্রের মতো, এখানে চোরেরা নিখুঁত পরিকল্পনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যেমন প্রসারিত মই দিয়ে জানালা ভাঙা ও প্রদর্শন কাচ কাটা। ধুম ৩ (২০১৩)-এর মতো, এই ঘটনাতেও আছে নাটকীয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রতীক, ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় সম্পদ হারানো, যা জাতীয় আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাতের সমান।
আরও পড়ুন: Artificial Intelligence Job: ফ্রেশারদের জন্য কি ফের খুলছে আইটি সংস্থার দরজা?

সিনেমা ও বাস্তবের ফারাক
তবে এখানেই পার্থক্য, সিনেমায় চুরি দেখানো হয় রোমাঞ্চকর, নায়কোচিত ও বিনোদনমূলকভাবে, যেখানে দর্শক চোরের বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়। কিন্তু বাস্তবে লুভরের চুরি জাতীয় সম্পদ হারানোর বেদনা ও আইনভঙ্গের প্রতীক। এখানে নেই স্টাইলাইজড থ্রিল, আছে ঐতিহ্য হারানোর যন্ত্রণা।



