Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভুয়ো চাকুরীজীবী, ভুয়ো চিকিৎসক, ভুয়ো কূটনীতিক এবার সামনে এল ভুয়ো বিজ্ঞানীর কাণ্ড (Fake Scientist)। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে বছরের পর বছর নিজেকে পরমাণু গবেষক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন আখতার হুসেইনি কুতুবদ্দিন, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা (বয়স ৬০)। তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ভাই আদিল হুসেইনি (৫৯)। দু’জনেই দীর্ঘ তিন দশক ধরে ভুয়ো পরিচয়ের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কারবার চালিয়ে গিয়েছেন।
নিজেকে পরমাণু গবেষক দাবি (Fake Scientist)
তদন্তে জানা গিয়েছে, আখতার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তির সামনে নিজেকে ‘পারমাণবিক বিজ্ঞানী’ বলে দাবি করতেন। সেই পরিচয়ের জোরে তিনি বহু সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং বিপুল অর্থ রোজগার করতেন। গত কয়েক বছরে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত বিদেশি উৎস থেকে মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়েছে, যা পুলিশি তদন্তে ধরা পড়েছে।
উদ্ধার হওয়া গোপন তথ্য (Fake Scientist)
দিন কয়েক আগেই মুম্বই পুলিশ আখতারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে, অন্তত ১০টি পারমাণবিক কেন্দ্রের মানচিত্র, গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য, ভুয়ো আইকার্ড ও পরিচয়পত্র, যেগুলো পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের পরিচয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, তিনি এবং তাঁর ভাই নানা দেশের কাছে গোপন পারমাণবিক তথ্য পাচার করতেন এবং তার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা পেতেন।
ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগ (Fake Scientist)
তদন্তকারীদের হাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আখতার ও আদিল হুসেইনি ইরানের একাধিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন, তাঁরা প্লাজমা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি লিথিয়াম-৬ ভিত্তিক ফিউশন রিঅ্যাক্টর প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন। এমনকি তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা লিথিয়াম-৭ ব্যবহার করে একটি রিঅ্যাক্টর পরীক্ষাও করেছেন, যা সামান্য ব্যবধানের জন্য সফল হয়নি। সূত্রের দাবি, মার্চ-এপ্রিল মাসে দুই ভাই তেহরানে গিয়েছিলেন, এবং ভারত ও দুবাইতে ইরানি দূতাবাসেও তাঁদের একাধিকবার যাওয়া প্রমাণিত হয়েছে।

কূটনীতিককে প্রতারণার ছক (Fake Scientist)
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য দুই ভাই এক ইরানি কূটনীতিককে একজন সিনিয়র বিএআরসি বিজ্ঞানী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন। জাল ব্লু-প্রিন্ট, বৈজ্ঞানিক ভাষা ও প্রমাণপত্র দেখিয়ে তাঁরা কূটনীতিককে বিশ্বাস করান যে তাঁদের হাতে ভারতের এক গোপন পারমাণবিক প্রকল্পের নকশা রয়েছে, যা তাঁরা ইরানি সংস্থার কাছে বিক্রি করতে পারবেন। তাঁদের ব্যবহৃত মাধ্যমও ছিল অত্যাধুনিক তাঁরা ব্যবহার করতেন ভিপিএন এবং এনক্রিপ্টেড নেটওয়ার্ক, যাতে যোগাযোগের কোনো সূত্র ফাঁস না হয়।
সবটাই ধাপ্পাবাজি (Fake Scientist)
তদন্তে যুক্ত ভারতীয় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের দাবি তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। তাঁরা যে লিথিয়াম-৬ প্রোটোটাইপের কথা বলছেন, তার কার্যকারিতা প্রমাণের কোনও প্রমাণ নেই। আর লিথিয়াম-৭ ব্যবহারের দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন, কারণ লিথিয়াম-৭ ফিউশন বিক্রিয়ার জন্য অনুপযুক্ত।
জটিল বৈজ্ঞানিক ভাষায় বিভ্রান্তি ছড়ানো (Fake Scientist)
সূত্র জানিয়েছে, দুই ভাই তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা, আইসোটোপ রসায়ন এবং প্লাজমা গতিবিদ্যার মতো জটিল বৈজ্ঞানিক শব্দ ব্যবহার করতেন। তাঁদের কথাবার্তা ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা শুনে অনেকেই তাঁদের প্রকৃত বিজ্ঞানী ভেবে ভুল করেছেন।
আরও পড়ুন: Kolkata Book Fair: বইমেলায় বাংলাদেশের স্টল নিয়ে অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রের কোর্টে বল ঠেলল গিল্ড
তিন দশকের ছলনা ও তদন্তের দিক
১৯৯৫ সাল থেকেই আখতার ও আদিল এই প্রতারণার জাল বিস্তার করেন। দুই ভাইয়ের যৌথ কৌশলে তাঁরা একদিকে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানাতেন, অন্যদিকে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাষ্ট্রদ্রোহ, সংবেদনশীল তথ্য পাচার, বিদেশি অর্থ লেনদেন আইন লঙ্ঘন, এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির মতো একাধিক অপরাধ।



