Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানে সামরিক প্রভাব আরও এক (Pakistan) ধাপ দৃঢ় হল ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে। নতুন এই সংশোধনী কার্যত দেশটিকে “আনুষ্ঠানিকভাবে” সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে বলে সমালোচকদের মত। খুব শীঘ্রই এই সংশোধনী দেশের পার্লামেন্ট্ পেশ করতে চলেছে পাকিস্তান সরকার। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারের শরিকদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসে এবিষয়ে ঐকমত্য আদায়ের চেষ্টা করবেন বলেও জানা গিয়েছে।
পাক রাজনীতিতে সেনার প্রভাব (Pakistan)
বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব (Pakistan) গোপন নয়, বরং রাষ্ট্রক্ষমতায় সেনার প্রভাব অপরিহার্য। আর এবার সংবিধানেই সেই কর্তৃত্বের বৈধতা দেওয়া হতে চলেছে।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা বাড়ছে? (Pakistan)
এই সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা (Pakistan) ব্যাপকভাবে বাড়ানো হতে পারে, যেখানে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা হবে মুখ্য। প্রধানমন্ত্রীসহ অসামরিক সরকারের সিদ্ধান্তেও এখন থেকে সেনাবাহিনীর অনুমোদন লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে নির্বাচিত সরকারের স্বাধীন নীতি গ্রহণের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন: Awas Yojana: ফের বাংলা আবাস যোজনায় দুর্নীতির ছায়া, তালিকা থেকে নাম বাদ প্রকৃত উপভোক্তার!
গণতন্ত্রের মৃত্যু পরোয়ানা
বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের মৃত্যু পরোয়ানা বলে আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি জানিয়েছে, এটি দেশের অসামরিক শাসনের উপর সরাসরি আঘাত এবং জনগণের ভোটাধিকারকে উপহাসের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সংশোধনী দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হতে চলেছে।
সংশোধনীর প্রভাব হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২৭তম সংশোধনী পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। সামরিক প্রভাব এখন শুধু পর্দার আড়ালেই নয়, সরাসরি দেশের সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই ঢুকে পড়তে চলেছে। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে পাকিস্তান গণতন্ত্র থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারে । তৈরি হয়ে উঠছে এমন এক রাষ্ট্রে, যেখানে বুলেটের শক্তি ব্যালটের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।


