Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায়না ব্যাংকনোট প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন-কে দেশের নতুন ব্যাংকনোট ছাপার দায়িত্ব দিয়েছে (Nepal News)। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে ইতিমধ্যেই একটি লেটার অফ ইন্টেন্ট পাঠিয়ে জানিয়েছে কাঠমান্ডু। এর মাধ্যমে ১,০০০ রুপির ৪৩০ মিলিয়ন নোট ডিজাইন, ছাপা ও সরবরাহের কাজ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৬.৯৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যোগ্যতার ভিত্তিতে জয়ী চীন (Nepal News)
নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক (NRB) জানিয়েছে, দরপত্রে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলির মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটি ছিল সবচেয়ে কম দামে এবং সব শর্ত পূরণকারী বিডার। গত তিন বছর ধরে টানা সাতবার নোট ছাপার চুক্তি জিতেছে চীনের এই সংস্থা। এ সময়ে নেপাল থেকে তাদের আয় হবে প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ডলার, যার বিনিময়ে ছাপবে ২.৩৮ বিলিয়ন নোট।
ভারত থেকে দূরে সরে কেন? (Nepal News)
একসময় নেপালের মুদ্রা ছাপানো হত ভারতের নাসিকের সিকিউরিটি প্রেসে। ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি সর্বশেষ ভারতীয় কোম্পানি SPML নেপালের ৫০ টাকার ৩০০ মিলিয়ন নোট ছাপার কাজ পায়। কিন্তু এবার ভারতকে এড়িয়ে চীনকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কারণ।

বিতর্কিত মানচিত্রই কেন্দ্রবিন্দু (Nepal News)
নেপালের নতুন নোটে দেশের বিতর্কিত অঞ্চল, লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি, কে নেপালের মানচিত্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অঞ্চলগুলো নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ চলায় ভারতের কোনও প্রতিষ্ঠান দিয়ে এমন নোট ছাপানো রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ত। ফলে কাঠমান্ডুকে কার্যত চীনের দিকেই ঝুঁকতে হয়েছে।
চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও সস্তা পরিষেবা
চীনা সংস্থা শুধু কম খরচে সেবা দেয়নি, বরং আধুনিক সিকিউরিটি ফিচার এবং উচ্চমানের প্রিন্টিং প্রযুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। এই কারণেই নেপালের সবকটি বড় মূল্যমানের নোট এখন চীনে ছাপানো হচ্ছে। নেপালই একমাত্র নয় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মতো দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বহু দেশও তাদের নোট ছাপার দায়িত্ব চীনা সংস্থাকে দিয়ে থাকে।

বিশ্বে চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব (Nepal News)
বর্তমানে চায়না ব্যাংকনোট প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নোট মুদ্রণ সংস্থা।
জাপানের ন্যাশনাল প্রিন্টিং ব্যুরো, রাশিয়ার গজনাক বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অফ এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলিও বিশ্ববিখ্যাত, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব এখন দ্রুত বাড়ছে।
আরও পড়ুন: Shahid Kapoor: দিল্লি বিস্ফোরণের জের, স্থগিত ‘ককটেইল ২’-এর শুটিং!
কৌশলগত বার্তা স্পষ্ট
নেপালের সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য নয় এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও পরিষ্কার করে দিচ্ছে।
কাঠমান্ডু ধীরে ধীরে ভারতের ঐতিহ্যগত প্রভাববলয় থেকে সরে এসে চীনের দিকে ঝুঁকছে, এবং সাম্প্রতিক নোট–ছাপার সিদ্ধান্ত তারই আরেকটি নিদর্শন।



