Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিনোদন জগতের সামনে যেমন আলো, ক্যামেরা (Cancer), গ্ল্যামার ঝলমল করে, ঠিক তেমনই আড়ালে লুকিয়ে থাকে সংগ্রাম, যন্ত্রণা, ভয়, অশ্রু এবং ভিতরের অপরাজেয় শক্তির গল্প। টলিউড থেকে বলিউড বহু শিল্পী ক্যান্সারের মুখোমুখি হয়ে প্রমাণ করেছেন, মৃত্যুকে ভয় না করে জীবনকে ভালোবাসা শেখালে অন্ধকার সরিয়ে আলোই জয়ী হয়। এই লেখায় সেই সব লড়াইয়ের গল্পই উঠে আসছে মিঠু চক্রবর্তী, চন্দন সেন, ভরত কল, সোনালি বেন্দ্রে, হিনা খান, মনীষা কৈরালা থেকে সঞ্জয় দত্ত যাঁদের সাহস আজ হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা।

আয়নার সামনে আত্মবিশ্বাস (Cancer)
অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর স্ত্রী, প্রতিভাশালী শিল্পী মিঠু চক্রবর্তী কয়েক বছর আগে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধে নেমেছিলেন।
চিকিৎসার সময় শরীর ক্লান্ত হলেও মনকে দৃঢ় রাখতেই তিনি বিশ্বাস করতেন। ‘রোগ শরীরে ছিল, মনে নয়’ এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী বক্তব্য, “রোগ শরীরে ছিল, মনে নয়। প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলতাম তুমি পারবে।” মানসিক শক্তির উপর এই অটল ভরসাই তাঁকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। এখন আবার ধীরে ধীরে কাজে ফিরছেন তিনি আগের মতো দীপ্তি নিয়ে।
ক্লান্ত শরীর, অদম্য মন (Cancer)
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা চন্দন সেনও একসময় ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছেন। চিকিৎসার কেমোথেরাপি, ব্যথা, ক্লান্তি কিছুই তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। ‘শরীর থামলেও মন থামে না’ চন্দনের নিজের কথা “শরীর ক্লান্ত ছিল, কিন্তু মন থামেনি। জানতাম লড়াইটা আমার, জয়ও আমারই।” চিকিৎসার সময় তিনি বই পড়েছেন, স্ক্রিপ্ট ভেবেছেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন। আজ তিনি আবার ব্যস্ত থিয়েটারের মঞ্চে, সিনেমার শুটিং ফ্লোরে, জীবনের নতুন উচ্ছ্বাসে।
ভালোবাসাই সর্বশ্রেষ্ঠ ওষুধ (Cancer)
টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ ভরত কল ক্যান্সারের কঠিন সময় পার করেছেন স্ত্রী-পরিবারের ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে। ‘ভালোবাসা ও হাসি দুটোই ওষুধ’ চিকিৎসার সময় তিনি বলেন “যন্ত্রণার দিন ছিল, কিন্তু আশেপাশের মানুষগুলোর ভালোবাসাই আমাকে বাঁচিয়েছে। ভালোবাসা ও হাসি দুটোই ওষুধ।” আজ সম্পূর্ণ সুস্থ ভরত আবার কাজে ফিরেছেন, নতুন উদ্যমে।

ভয়ের মুখেও হাসির সাহস (Cancer)
২০১৮ সালে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর বলিউডে শোকের ছায়া ফেলেছিল। কিন্তু সোনালি বেন্দ্রে ভয় নয়, সামনে তাকানো শিখিয়েছেন সবাইকে। চুলহীন মাথায় ছবিতে অদম্য বার্তা তিনি লিখেছিলেন, “জীবন সুন্দর, এমনকী যখন তা নিখুঁত নয়।” চিকিৎসার সময় নিজের চুলবিহীন মুখের ছবি প্রকাশ করে তিনি ক্যান্সার-যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন, অসুন্দর বলে কিছু নেই, বেঁচে থাকার জেদই সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
চোখের জলে নয়, গর্বে শক্তি (Cancer)
সম্প্রতি স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে অভিনেত্রী হিনা খানের। প্রথম কেমো নেওয়ার দিন নিজের ভিডিও পোস্ট করে তিনি দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেন। ‘আমি কাঁদছি না, আমি লড়ছি’ হিনার স্পষ্ট ঘোষণা “আমি কাঁদছি না, আমি গর্বিত। আমি লড়ছি, আমি বেঁচে আছি।” তাঁর এই অকপট সাহস আজ বহু নারীর মনে আগুন জ্বেলে দিয়েছে ভয় নয়, লড়াই–ই পথ।

ক্যান্সার শেখালো নতুন জীবনচিন্তা
২০১২ সালে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হন মনীষা কৈরালা। কঠিন চিকিৎসার পর তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বইয়ে লিখেছেন। ‘ক্যান্সার ভয় দেখায়, কিন্তু হার মানতে শেখায় না’ তাঁর ভাষায় “ক্যান্সার আমাকে ভয় দেখিয়েছিল, কিন্তু শেখায়নি কীভাবে হাল ছাড়তে হয়।” ফিরে আসার পর তিনি বলেন, এই লড়াই তাঁকে জীবনকে নতুন করে বুঝতে সাহায্য করেছে ছোট্ট সুখগুলোও এখন তাঁর কাছে অমূল্য।
আরও পড়ুন: Donald Trump: ট্রাম্পের কঠোর নীতি! ভারতের জন্য শাপে বর, না নতুন সংকটের শুরু?
মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে জয়
২০২০ সালে লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও সঞ্জয় দত্ত কখনও কাজ থামাননি। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি নিজের অনমনীয় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ‘চাইলে আমাকে নিতে পারে, কিন্তু আমি ভয় পাব না’ চিকিৎসার পর তাঁর কথায় “মৃত্যুকে বলেছিলাম নিতে চাইলে নিতে পার, কিন্তু আমি ভয় পাব না।” আজ তিনি আবার শুটিং সেটে একই শক্তি, একই হাসি, একই উদ্যম।



