Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপালে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা (Gen Z Protests)। সদ্য প্রাক্তন হয়ে যাওয়া শাসক দলের সমর্থক কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল এবং জেন-জি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের। বারা জেলাজুড়ে আগুন, বিক্ষোভ, দফায় দফায় হাতাহাতি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করেছে।
কার্ফুর ছায়ায় বারা জেলা (Gen Z Protests)
উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে বারা জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করেছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, ‘‘অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া উপায় ছিল না।’’
সিমরা, বিমানবন্দর অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিমরায় উত্তেজনার বিস্ফোরণ (Gen Z Protests)
এই নতুন অস্থিরতার শুরু আগের দিন সিমরা এলাকায়। জেন-জি বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রথমিক সংঘর্ষে প্রায় এক ডজন UML কর্মী জড়িত থাকলেও পুলিশ মাত্র দু’জনকে আটক করেছে। এই তথাকথিত পক্ষপাতমূলক আচরণে তরুণদের ক্ষোভ চরমে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে, রাজনৈতিক দলের দৌরাত্ম্য লাগামহীন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

বিমানবন্দরে তীব্র উত্তেজনা (Gen Z Protests)
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন খবর ছড়ায় CPN-UML সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর ও যুব নেতা মহেশ বসনেত সিমরায় একটি সরকারবিরোধী সমাবেশে যোগ দিতে কাঠমান্ডু থেকে রওনা হচ্ছেন। তারা বিমানে উঠতে গেলে বিমানবন্দরের বাইরে বিপুল সংখ্যক জেন-জি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। UML সমর্থকদের ঘিরে ধরা হয়, স্লোগান তীব্র হয়, এবং ক্রমশ পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর পরেই বিমানবন্দর অঞ্চলসহ আশপাশে কার্ফু ঘোষণা করা হয়।
“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে” (Gen Z Protests)
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফেল সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানান, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কেউ গুরুতর আহত হননি।’’ যদিও স্থানীয়দের দাবি উত্তেজনা যে কোনও মুহূর্তে ফের জ্বলতে পারে।
“শান্ত থাকুন” (Gen Z Protests)
দেশের নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি সর্বসমক্ষে আবেদন জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখুন, ২০২৬ সালের ৫ মার্চের নির্বাচন পর্যন্ত শান্ত থাকুন, হিংসা পরিস্থিতিকে আর জটিল করে তুলবে না। কার্কি জানান, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন কঠোর নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে। বারা জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের রক্তক্ষয়ের স্মৃতি এখনও তাজা
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসেই জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে গোটা নেপাল উত্তাল হয়ে উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হলেও পরে দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। সেই বিক্ষোভে ৫১ জন নিহত, ১,৩০০-র বেশি আহত, দু’দিনেই কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন, নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনায় ধরা পড়ে।

কিন্তু চ্যালেঞ্জ বড় (Gen Z Protests)
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কিকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে।
তিনি ঘোষণা করেন, নিহতদের ‘শহিদ’ মর্যাদা, একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন, এবং দাবি তোলেন যে হিংসার পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র চালিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: Bengal: সাত পয়েন্টের স্বপ্ন দেখেও সন্তুষ্ট থাকতে হল ৩ পয়েন্টেই
নেপালের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
নেপালের বর্তমান অস্থিরতা এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, জেন-জি এখন আর নিছক দর্শক নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সক্রিয় শক্তি। তাদের দাবি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, এবং পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার। আজকের নেপাল তাই এক চৌরাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক শক্তি এবং উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা মুখোমুখি সংঘর্ষে।



