Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত খুবই নিয়মমাফিক (SIR), নির্লিপ্ত ও প্রশাসনিক। কিন্তু মুর্শিদাবাদের ডোমকলের রায়পুরের চোয়াপাড়ায় পৌঁছে এই সাধারণ প্রক্রিয়াই হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ এক ফর্মে দুই স্ত্রীর নাম লেখার অভূতপূর্ব দাবি। ঘটনা শুনে প্রশাসন তো বটেই, পুরো এলাকা অবাক।

শুকুর মণ্ডলের বাড়ি থেকে শুরু বিতর্কের ঝড় (SIR)
চোয়াপাড়ার বাসিন্দা শুকুর মণ্ডল কেরলে কর্মরত। তাঁর পরিবারে রয়েছেন দুই স্ত্রী মমতা বিবি ও মর্জিনা বিবি। দু’জনই একই বাড়িতে থাকেন, একে অপরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই। বিএলও যখন তাঁদের বাড়িতে এসআইআর ফর্ম দিলেন, তখনই উঠে আসে প্রশ্ন, স্ত্রীর নামের ঘর মাত্র একটিই! দু’জন স্ত্রীই যেমন নিজের নাম চান, তেমনই স্বামীও কেরল থেকে ফোনে দাবি জানালেন, “দুই বউকে সমান মর্যাদা দিলে ফর্মে একজনের নাম কেন?” এ ঘটনার পরই শুরু হয় তর্ক, আলোচনা ও প্রশাসনিক বিভ্রান্তি।
‘আমরা মিলেমিশে থাকি, তাহলে ফর্মে অসুবিধা কোথায়?’ (SIR)
প্রথম স্ত্রী মমতা বিবি জানান, “আমাদের দু’জনেরই খুব মিল। আমরা কোনও ঝামেলা ছাড়া চলি। যদি আমরা মানিয়ে নিতে পারি, সরকার কেন পারবে না?” দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনা বিবিও একই অবস্থান, সমান মর্যাদা যেহেতু বাস্তবে রয়েছে, তাই সরকারি নথিতে তা প্রতিফলিত হোক এই আশা তাঁরা দু’জনেই রাখেন। বাস্তবতা বনাম নীতি, দুই স্ত্রী থাকা তাঁদের পরিবারে সামাজিকভাবে স্বীকৃত।, কিন্তু সরকারী নথিপত্রে “এক স্ত্রী” এই ধারাই বহাল। এই দ্বৈততা থেকেই জন্ম নেয় সমস্যার।

নিয়ম মানবেন, নাকি মানুষের দাবি? (SIR)
মাঠপর্যায়ের কর্মী হিসেবে সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় পড়েছেন বিএলও। তিনি বলেন, ফর্মে স্ত্রীর নামের ঘর মাত্র একটিই। এপিক নম্বর দেওয়ার জায়গাও একটিই। ফর্মে একাধিক পত্নীর তথ্য দেওয়ার কোনও অপশন নেই। কাকে স্ত্রী হিসাবে নথিভুক্ত করা হবে তা বলতে গেলে দুপক্ষেরই মনক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা। ফলে তিনি সেই কলামটি ফাঁকা রেখেছেন। বিএলও-র সোজাসাপ্টা মন্তব্য “সমাজে অনেকেরই দুই বউ আছে। নির্বাচন কমিশন যদি দুই স্ত্রীর জন্য অপশন দিত, আমাদের কাজ আরও সহজ হতো।”
আইন, বিধি ও বাস্তবতার টানাপোড়েন (SIR)
ঘটনার খবর প্রশাসনে পৌঁছতেই চোখ কপালে উঠে যায়। প্রশ্নগুলি একের পর এক, আইনের অবস্থান মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুসারে বহুস্ত্রী গ্রহণ বৈধ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বা সরকারি নথিতে ‘spouse’ স্থানটি সর্বদা একক। নথিপত্রে বাস্তবতার প্রতিফলন নেই, পরিবারে যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, ফর্মে তা দেখানোর জায়গা নেই। ফলে সমাজের একটি বাস্তব ছবি নথিপত্রে লুপ্ত থাকে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা ঘটনাটি রিপোর্টসহ উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার, নির্বাচন দফতর কি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে বিশেষ নির্দেশ দেবে? নাকি ‘এক ফর্ম, এক স্ত্রী’ নীতিই বজায় রাখবে?
প্রশ্ন উঠল সমাজ কাঠামো নিয়েও
এই ঘটনা একটি বড় বিতর্ক সামনে আনে, সরকারি ফর্ম কি সমাজের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে? চোয়াপাড়ার বাসিন্দারা বলছেন, অনেক পরিবারেই একাধিক স্ত্রী থাকে। এটি আইনসম্মত (বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে)। কিন্তু সরকারি ফর্মে তার প্রতিফলন শূন্য। সমাজের যুক্তি: বাস্তবে যখন বহুবিবাহ স্বীকৃত, তখন সরকারি নথির কাঠামোও হালনাগাদ হওয়া উচিত। বিপরীত যুক্তি: একাধিক স্ত্রীর তথ্য রাখলে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়বে। এভাবে বিতর্কটি আইন-নীতির পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানেও প্রভাব ফেলছে।



