Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বহু দশকের পুরোনো (Vladimir Putins India Visit)। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ গবেষণা এবং ভূ-রাজনীতিতে দুই দেশের সহযোগিতা সর্বদাই নজর কেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মোড় ঘোরানো সময়েই আবারও ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অপারেশন সিঁদুর–এর পর এই প্রথমবার তাঁর ভারত যাত্রা যা কূটনৈতিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৪–৫ ডিসেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন পুতিন। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মুখোমুখি বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের নানা দিক উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন পর উচ্চ পর্যায়ের সফর (Vladimir Putins India Visit)
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুতিনের সফর সীমিত হয়। পশ্চিমা দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা, ডিপ্লোম্যাটিক চাপ এবং যুদ্ধের জটিলতায় রাশিয়ার কূটনৈতিক গতিবিধি অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতেই পুতিনের ভারত সফর দুই দেশের আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের পরিচয় বহন করে।
মোদি–পুতিন সম্পর্কের দৃঢ়তা (Vladimir Putins India Visit)
দুই নেতার বন্ধুসুলভ সম্পর্ক এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে ব্রিকস ও বার্ষিক সম্মেলনে মোদির মস্কো সফরের পর এবার পালা পুতিনের। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও এই ধারাবাহিক যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও স্থায়ী ও শক্তিশালী করছে।

“সুদর্শন চক্র” নিয়ে নতুন চুক্তির সম্ভাবনা (Vladimir Putins India Visit)
ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে পাঁচটি এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চুক্তি করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ইউনিট ভারতীয় বাহিনীর হাতে পৌঁছেছে। এবার মস্কো ভারতকে আরও দুই থেকে তিনটি অতিরিক্ত এস–৪০০ সিস্টেম সরবরাহের প্রস্তাব দিতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। এস–৪০০ যে কোনও শত্রুর বিমান, ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক মিসাইলকে ভূপাতিত করতে সক্ষম। পাকিস্তানের দিক থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এটি ভারতের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
ভারতীয় সামরিক আধুনিকীকরণ (Vladimir Putins India Visit)
রাশিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। যদিও গত দশকে আমদানি কিছু কমেছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের প্রভাবে তবুও উন্নত প্রযুক্তি, সাশ্রয়ী দাম এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কারণে রাশিয়ার অস্ত্র এখনও গুরুত্ব হারায়নি।
এই সফরে আলোচনা হতে পারে, যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, হেলিকপ্টার, সাবমেরিন ও ফাইটার জেট আপগ্রেড, ডিফেন্স R&D সহযোগিতা নিয়ে।

আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
আলোচনায় থাকবে ইউক্রেন যুদ্ধও
ভারত সব সময়ই ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বলেছে। রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দিল্লির অবস্থান বিশেষ। ফলে পুতিন-মোদির বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যও আলোচনার মূল বিষয় হতে পারে।



