Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বালোচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে অশান্ত প্রদেশ (Female Suicide)। বহু দশক ধরে চলমান স্বাধীনতা আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় দমননীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহ এই সব মিলিয়ে অঞ্চলটি প্রায় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলা এই অস্থিরতা আরও গভীর করেছে। রবিবার রাতে চাঙ্গাই জেলার নোকুন্ডিতে ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি)-এর সদরদপ্তরে এক মহিলা আত্মঘাতী জঙ্গির ভয়াবহ বিস্ফোরণ বালোচিস্তান সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এরপর আধাসেনার সঙ্গে বিদ্রোহীদের তীব্র সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ছয় জঙ্গির। এই ঘটনা কেবল একটি নিরাপত্তা ব্যর্থতা নয়, এটি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো, বালোচ জনগণের ক্ষোভ এবং বিদ্রোহী সংগঠনগুলির কৌশলগত উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে নোকুন্ডি (Female Suicide)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আত্মঘাতী হামলাকারীর নাম জিনাতা রফিক, যিনি বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)-র সদস্য ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে BLA তাদের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে তারা এখন আত্মঘাতী ইউনিটও ব্যবহার করছে, এবং তাতে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
মূল ফটকের সামনে বিস্ফোরণ (Female Suicide)
রবিবার রাতের নীরবতা ভেঙে রাতে প্রায় ১০টার দিকে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে নোকুন্ডি। এফসি সদরদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জিনাতার শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা ও গুলির লড়াই (Female Suicide)
বিস্ফোরণের পরপরই আরও চার থেকে পাঁচজন বিদ্রোহী সদরদপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু তক্ষুনি সতর্ক হয়ে ওঠেন নিরাপত্তারক্ষীরা। শুরু হয় গুলি বিনিময়। দীর্ঘ মিনিট কুড়ি চলা এই সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ৬ জন বিদ্রোহীর। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি, যা আরও রহস্য সৃষ্টি করছে।
স্বাধীনতার দাবি ও রাষ্ট্রীয় অবহেলা
বালোচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল খনিজ, গ্যাস, তেল, মেরিন সম্পদ রয়েছে প্রচুর। কিন্তু বালোচ জনগণের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুফল পায় না মূল বাসিন্দারা; বরং তা চলে যায় কেন্দ্রীয় সরকারের দখলে। এই বৈষম্য থেকেই শুরু হয় স্বাধীনতার দাবি, যা পরে সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়।

BLA ও অন্যান্য সংগঠন (Female Suicide)
বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) সবচেয়ে সক্রিয় সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম। তারা পাকিস্তানি সেনা, আধাসেনা এবং সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে থাকে। গত দু’ বছরে তাদের কার্যকলাপ আরও শক্তিশালী হয়েছে, আত্মঘাতী হামলা, ট্রেন হাইজ্যাক, সেনা টহলদলে আক্রমণ, সীমান্ত পোস্টে হামলা, শুধু ২০২৫ সালে বালোচিস্তানে ৪৫০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী, বিদ্রোহী এবং সাধারণ মানুষ।
কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে? (Female Suicide)
মহিলাদের সশস্ত্র আন্দোলনে যুক্ত হওয়া দেখায় যে বিদ্রোহ কেবল অস্ত্রধারী পুরুষদের লড়াই নয় এটি পুরো সমাজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। নারীদের আত্মঘাতী হামলায় অংশগ্রহণ পাকিস্তানের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। আগের তুলনায় এখন বালোচ সংগঠনগুলি আরও সংগঠিত। নারী আত্মঘাতীদের ব্যবহার করা হচ্ছে নিরাপত্তা চেকপোস্ট বা ফটকে সহজে প্রবেশের সুবিধা নিতে।
আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
নিখোঁজ ও টার্গেট কিলিং
বালোচ মানুষের দাবি, পাক সেনা বাছাবাছিভাবে তরুণ, ছাত্র, কর্মজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই আর ফিরে আসছেন না। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, বালোচিস্তানে চালানো হচ্ছে এক ধরনের ‘স্যাইলেন্ট জেনোসাইড’। শুধু সামরিক দমন দিয়ে এ সমস্যা শেষ হবে না। রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক বণ্টনে সমতা, মানবাধিকার রক্ষা এসব ছাড়া বালোচিস্তানে স্থায়ী শান্তি অসম্ভব।



