Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সন্ধ্যা হলেই টেবিলে মুড়ি, চানাচুর বা চিপস (Hunger) হাজির! একটু পরে আবার মনে হতে থাকে- এ বার যেন কিছু মিষ্টি খাওয়া যায়। অথচ শরীরের বিশেষ ক্ষিদে নেই, পেটও ভরা। তবুও মুখে কিছু না কিছু চালান করার ইচ্ছা চেপে রাখা যায় না। এই ‘খাই খাই’ অভ্যাস প্রায় সকলেরই পরিচিত। পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে, এমন প্রবণতার পেছনে শুধুই ক্ষুধা দায়ী নয়। বরং শরীর ও মনের নির্দিষ্ট কিছু অবস্থা এই অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাকে বাড়িয়ে দেয়।
মানসিক চাপেই খাই খাই! (Hunger)
অনেক সময় দেখা যায়, দুশ্চিন্তা বাড়লে কেউ খাবার (Hunger) থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে যান, আবার কারও ক্ষেত্রে খাওয়ার প্রবণতা অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যায়। মন চঞ্চল বা চাপগ্রস্ত থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়। কর্টিসল বাড়লে বিশেষ করে ভাজাভুজি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ দ্রুত বাড়ে। তখন পেট ভরা থাকলেও বার বার মুখে খাবার দিতে ইচ্ছে করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন-এমন অনুভূতি হলে সঙ্গে সঙ্গে খাবার না খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন, গভীর শ্বাস নিন কিংবা মনোযোগ সরিয়ে অন্য কাজে মন দিন। এতে খাওয়ার ইচ্ছা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
হরমোনের তারতম্য (Hunger)
মহিলাদের ক্ষেত্রে রজোনিবৃত্তি তথা মেনোপজ (Hunger) এবং তার আগের সময়, অর্থাৎ পেরিমেনোপজ-এ শরীরে বড় ধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ার ফলে মেজাজ, শক্তি এবং খিদে-সবকিছুর ওপরেই প্রভাব পড়ে। ইস্ট্রোজেন স্বাভাবিকভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই এটির মাত্রা কমতে শুরু করলে খাবারের প্রতি আকর্ষণ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। অনেকেই এই সময়ে অযথা খেতে থাকেন, যদিও প্রকৃত ক্ষুধা নেই। তাই এই সময়ে খাদ্যাভাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানসিক ওঠাপড়া সামলানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের অভাব
ঠিক মতো ঘুম না হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ঘুম কম হলে ঘ্রেলিন নামের একটি হরমোন বেড়ে যায়, যা ক্ষুধা বাড়ায়। অপরদিকে লেপটিন নামের হরমোন কমে যায়, যা স্বাভাবিকভাবে পেট ভরা অনুভূতি দেয়। এই দুই বিপরীত পরিবর্তনের ফলে পেট ভরা থাকলেও মানুষ বার বার খাবারের দিকে হাত বাড়ান। দীর্ঘদিন ঘুম ঠিকমতো না হলে এই প্রবণতা আরও বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন: ECI: ভোটার তালিকায় একাধিক গরমিল, গরমিল রোধে নজরদারিতে কড়াকড়ি কমিশনের!
সমাধান কী?
এই খাই খাই অভ্যাস সামলাতে নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খাবার খাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন-সত্যিই কি ক্ষিদে পেয়েছে, নাকি মনের আবেগই আপনাকে খেতে বাধ্য করছে?


