Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাপান আবারও প্রকৃতির ভয়ঙ্কর শক্তির সামনে দাঁড়াল (Japan Earthquake)। রিখটার স্কেলে ৭.৬ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্প কেঁপে তুলল দেশের উত্তর ও পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল। ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিল সুনামির আশঙ্কা, শুরু হল আতঙ্ক, উদ্বেগ এবং নিরাপদ স্থানে যাওয়ার হুড়োহুড়ি। ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানের জন্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন এই ধরনের কম্পন ভবিষ্যতের আরও বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হতে পারে।
ঘটনার সময় (Japan Earthquake)
স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ নাগাদ জাপানের হোক্কাইডো, আমেরি এবং ইওয়াতে এলাকায় এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঝাড়বাতি দুলে ওঠে, গাড়ি কেঁপে ওঠে, ঘরের জিনিসপত্র সরে যায়, রাস্তায় থাকা মানুষ আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্প প্রায় এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়।
সুনামির সতর্কতা (Japan Earthquake)
জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (JMA) ভূমিকম্পের পরই সুনামি সতর্কতা জারি করে। সতর্কতায় জানানো হয় যে, ঢেউয়ের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, হোক্কাইডোর পূর্ব উপকূলে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি দেখা গেছে, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে সুনামির তরঙ্গ। সতর্ক থাকা দেশগুলির তালিকায় যুক্ত হয়, আলাস্কা, হাওয়াই, চিলি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ নিউজিল্যান্ডসহ একাধিক অঞ্চল।
রাশিয়ার ভূমিকম্পের পরবর্তী সুনামির স্মৃতি (Japan Earthquake)
গত জুলাই মাসে রাশিয়ায় ঘটে যাওয়া ভয়ংকর ভূমিকম্প এখনো মানুষের মনে দাগ কেটে আছে। তখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় কামচাটকা অঞ্চলে ২৫ ফুটের বেশি উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। এর প্রভাব পৌঁছেছিল, জাপানের হোক্কাইডো, আমেরিকার আলাস্কা, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জেও। জাপানের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ৯ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল সেই সময়। বর্তমান ভূমিকম্পের পরও মানুষের মনে সেই দিনের ভয়ের ছায়া ফিরে এসেছে।
ভূমিকম্পপ্রবণতার কারণ (Japan Earthquake)
জাপান ‘রিং অব ফায়ার’-এর অন্তর্গত হওয়ায় পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এর মূল কারণ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, নর্থ আমেরিকান পাত, ইউরেশিয়ান পাত এবং আরও কয়েকটি টেকটোনিক পাত এখানে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায় বা সরে যায়। এ কারণেই জাপানে নিয়মিত ভূমিকম্প ঘটে, যার অনেকগুলোই ক্ষুদ্র, কিন্তু কিছু কিছু ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: Hunger: খাওয়ার পরেও খাই খাই! কেন হয় এমন?
পরিখার নীচে বিপজ্জনক গঠন
পাঁচ বছরব্যাপী সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন জাপানের পূর্ব উপকূলের সঙ্গে সমান্তরালে অবস্থিত চিশিমা পরিখা যেখানে ভূতাত্ত্বিক গঠন অত্যন্ত সক্রিয় ও বিপজ্জনক। এখানে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় টেকটোনিক পাত, নর্থ আমেরিকান পাতের নীচে ঢুকছে (সাবডাকশন প্রক্রিয়া) ফলে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সক্রিয় চ্যুতিরেখা। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অঞ্চলে কোনও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা ঘটলে ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৯-এ পৌঁছাতে পারে। আর তেমন হলে সুনামির ঢেউ ২০ মিটার উচ্চতাও ছুঁতে পারে।



