Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শীতের রেশ পড়তে না পড়তেই চারপাশে মেলার গন্ধ (Kathak Story)। ভোরের কুয়াশা সরতেই শহর-শহরতলি জুড়ে শুরু হয়ে যায় নানা রকম মেলা, হস্তশিল্প, খাবার, লোকসংস্কৃতি, আর তার মধ্যেই এক বিশেষ জায়গা দখল করে থাকে বইমেলা। কলকাতা বইমেলাও আর বেশি দূরে নয়। তার আগেই রাজ্যজুড়ে ছোট-বড় নানা বইমেলা যেন বাঙালির অপেক্ষার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বই মানুষের কাছে কী, বাঙালির কাছে কী? (Kathak Story)
বই মানুষের কাছে শুধু বিনোদন নয় বই আশ্রয়, বই বন্ধু, বই প্রতিবাদ, বই স্বপ্ন। আর বাঙালির কাছে বই মানে তো আবেগ, আত্মপরিচয় ও ঐতিহ্যের অংশ। জন্মের পর থেকে ঘরে ঘরে যে জিনিসটির সঙ্গে বাঙালির আলাপ হয়, তা হলো বই ছড়ার বই, গল্পের বই, স্কুলের পাঠ্যবই, আর একটু বড় হলে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ। বই পড়ে বড় হওয়া বাঙালির রক্তে-মজ্জায় মিশে আছে পাঠের নেশা। তাই বইমেলা বাঙালির কাছে নিছক কেনাকাটার জায়গা নয় এ এক উৎসব, এক মিলনক্ষেত্র, এক আবেগের ঠিকানা।
“মানুষ বই পড়ে না” এই ধারণা কি সত্যি? (Kathak Story)
প্রায়ই শোনা যায়, “বর্তমান সময়ে মানুষ বই পড়ে না”। আবার শোনা যায়, “মানুষ লেখে বেশি, পড়ে কম”। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে যদি মানুষ পড়েই না, তাহলে এত বই বিক্রি হয় কীভাবে? এত প্রকাশনা, এত নতুন লেখক, এত বইমেলা সবই কি মিথ্যে? বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে অন্য কথা। পাঠকের সংখ্যা হয়তো রূপ বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু বইয়ের প্রতি টান কমেনি। আর তার প্রমাণ মেলে এমন কিছু জায়গায়, যেগুলি শুধুই দোকান নয় ভালোবাসার ঘর।

এক টুকরো ভালোবাসার ঘর (Kathak Story)
বারাসতের কাছে শেঠপুকুরের ঠিক পাশেই অবস্থিত বইয়ের দোকান “কথক”। দোকান বললে ভুল হবে এ যেন এক টুকরো ভালোবাসার ঘর। এখানে প্রতিনিয়ত আনাগোনা লেগে থাকে পাঠক, লেখক, ছোট ছোট বাচ্চা, নতুন প্রজন্মের বইপ্রেমীরা। কথকে গেলে বোঝা যায় বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আজও কতটা জীবন্ত। এখানে কেউ আসে বই কিনতে, কেউ আসে আড্ডা দিতে, কেউ আসে সন্তানের হাতে প্রথম গল্পের বই তুলে দিতে।

ছোট পরিসরে বড় উৎসব (Kathak Story)
গত ১৩ তারিখ থেকে কথকে শুরু হয়েছে বইমেলা, চলবে ২১ তারিখ পর্যন্ত। কথকের আয়োজিত এই মেলার প্রথম বর্ষেই প্রতিদিন রাখা হয়েছে নানাবিধ চমকদার ইভেন্ট। তার মধ্যে অন্যতম হলো এক অভিনব ক্যুইজ ও বুক প্রাইস গেম, যা পাঠকদের আরও কাছে টেনে এনেছে। এই মেলা প্রমাণ করে দেয় বইমেলা শুধু বড় মাঠ আর বড় স্টলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ছোট জায়গাতেও আন্তরিকতা, পরিকল্পনা আর ভালোবাসা থাকলে বইকে কেন্দ্র করে এক অনন্য উৎসব গড়ে তোলা যায়।
আরও পড়ুন: Purba Bardhaman: দেবশালার অমর প্রেমকাহিনির অলিখিত সমাধি

পাঠের নতুন ঠিকানা
কথকের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এখানে বই সারাবছরই বেঁচে থাকে। কখনও পাঠচক্র, কখনও আলোচনা, কখনও খেলাধুলোর মাধ্যমে বইকে ঘিরে কিছু না কিছু চলতেই থাকে। বইয়ের সঙ্গে কফি, স্ন্যাকস আর আড্ডা এই মেলবন্ধন পাঠকে করে তোলে আরও আনন্দের। এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। যদিও দূরত্বের কারণে সবার পক্ষে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হয় না, তবু মন থেকে চাওয়া কথক আরও ভালো করুক, তরতরিয়ে এগিয়ে চলুক।



