Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন দলের নামেই স্পষ্ট হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থান (Humayun Kabirs)। ‘জনতা’ এবং ‘উন্নয়ন’ এই দুই শব্দকে সামনে রেখে তিনি যে সাধারণ মানুষের রাজনীতির কথা বলছেন, তা তাঁর বক্তব্যেও বারবার উঠে এসেছে। মুর্শিদাবাদের গ্রাম-গঞ্জে ব্যানার ও পোস্টারে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সরাসরি জনস্বার্থের কথা বলছে। রাজনৈতিক অভিজাতত্বের বদলে জনসাধারণের প্রতিনিধিত্ব এই বার্তাই দিতে চাইছে জনতা উন্নয়ন পার্টি।

শ্রদ্ধা আছে, কিন্তু আক্ষেপও (Humayun Kabirs)
নতুন দল ঘোষণার আগেই এক সাক্ষাৎকার-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়, তিনি আজও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন যোগ্য নেত্রী হিসেবেই দেখেন। ভবিষ্যতেও সেই সম্মান বজায় থাকবে। তবে একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, ১৫ বছর আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর বর্তমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে “আকাশ-পাতাল পার্থক্য” তৈরি হয়েছে। হুমায়ুনের মতে, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে নেত্রীর দূরত্ব বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে “স্পর্শ করা যায় না” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর দিকেই আঙুল তুলেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘সফ্ট কর্নার’ (Humayun Kabirs)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য তুলনামূলক ভাবে সংযত ও আশাবাদী। তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন, অভিষেকের প্রতি তাঁর একটি সফ্ট কর্নার রয়েছে। কারণ হিসেবে বলেন, অভিষেক একজন ট্যালেন্টেড যুবক এবং ভবিষ্যতে যোগ্য রাজনীতিক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানেও শর্ত জুড়ে দেন হুমায়ুন। তাঁর মতে, অভিষেক যদি নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্তে রাজনীতি করেন, তবেই সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি, কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যাঁরা অভিষেকের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করছেন এবং রাজনৈতিক পরিসরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আইপ্যাকের কিছু ভূমিকা নিয়েও তাঁর বক্তব্যে অসন্তোষের সুর শোনা যায়।

আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক মানুষ (Humayun Kabirs)
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যেও রয়েছে আলাদা মাত্রা। তিনি স্পষ্ট বলেন, শুভেন্দু অধিকারী আদ্যোপান্ত একজন রাজনৈতিক মানুষ। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিক হিসেবেই দেখেন হুমায়ুন। যদিও বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক দলে গিয়ে অনেক উল্টো-পাল্টা কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেন, তবুও ব্যক্তিগত স্তরে তাঁর সম্পর্কে কোনও খারাপ ধারণা নেই বলেই জানান হুমায়ুন কবীর।
‘বাংলার মানুষের উন্নয়ন’ (Humayun Kabirs)
নতুন দল গঠনের মূল লক্ষ্য কী এই প্রশ্নে হুমায়ুন কবীরের উত্তর স্পষ্ট। “এক নম্বর ঘোষণা বাংলার মানুষের উন্নয়ন।” তিনি অতীতের রাজনৈতিক শাসনেরও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, সিপিএম ৩৪ বছরে বাংলার মানুষকে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে ক্যাডার-ভিত্তিক রাজনীতি তৈরি করেছিল। তৃণমূল সরকারের ক্ষেত্রেও তিনি অভিযোগ করেন আজ সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা নেই, বরং আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাই শাসন করছে।

জোট না একলা চলা? (Humayun Kabirs)
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে হুমায়ুন কবীর আপাতত কোনও জোটের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না। তাঁর কথায়,
“জোটের বিষয়টা অনেক জটিল। একলা চলতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, নতুন দলের পথচলা আজ থেকেই শুরু হবে এবং সেই সঙ্গে রাজ্য কমিটিও ঘোষণা করবেন। অর্থাৎ, সংগঠন গঠনের দিকেই আপাতত তাঁর প্রধান নজর।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: ১৪ হাজার BLA-কে নিয়ে আজ নেতাজি ইন্ডোরে বৈঠক মমতার
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোন প্রতীকে লড়বেন হুমায়ুন কবীর এই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ‘ফুল’-এর ভাবনা। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ফুল প্রতীককে সামনে রেখেই মানুষের কাছে যেতে চান। যদিও তা তৃণমূলের প্রতীকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করবে।



