Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বলিউডের ইতিহাসে যাঁর নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শক্তপোক্ত চেহারা (Dharmendra), গভীর দৃষ্টি আর অনবদ্য অভিনয় সেই ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আর আমাদের মধ্যে নেই। তাঁর প্রয়াণের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর শেষ অভিনীত ছবি ‘ইক্কিস’। কিন্তু চরম দুঃখের বিষয়, নিজের এই শেষ কাজটি বড় পর্দায় দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য হল না অভিনেতার।

শেষ কাজ ‘ইক্কিস’ ও অপূর্ণ ইচ্ছে (Dharmendra)
পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও এই ছবিটি নিয়ে গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, কোনও স্পেশাল স্ক্রিনিং নয় একদম সাধারণ দর্শকের মতো সিনেমা হলে বসে পুরো ছবিটি দেখতে। কিন্তু সময় তাঁকে সেই সুযোগ দিল না। রাঘবনের আক্ষেপ, ধর্মেন্দ্র ছবির মাত্র প্রথমার্ধ দেখতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধ দেখার অপেক্ষায় থাকলেও, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর তা সম্ভব হয়নি।
শুটিংয়ের শেষ পর্যায়ে অসুস্থতা (Dharmendra)
পরিচালকের কথায় উঠে এসেছে ধর্মেন্দ্রর শেষ দিনের কর্মজীবনের ছবিটাও। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে যখন ছবির শেষ পর্যায়ের ডাবিং চলছিল, তখনই শরীর বিশেষ সায় দিচ্ছিল না। যদিও মানসিকভাবে তিনি ছিলেন দৃঢ়, শারীরিক দুর্বলতা ধীরে ধীরে গ্রাস করছিল তাঁকে। রাঘবন বলেন, অক্টোবর মাসে তাঁর সঙ্গে শেষবার দেখা হওয়ার সময় ধর্মেন্দ্র ঠিকঠাকই ছিলেন, কিন্তু শরীর ছিল স্পষ্টতই ক্লান্ত। তবুও ছবির প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনও ঘাটতি ছিল না।

‘ওল্ড স্কুল’ অভিনেতা ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)
ধর্মেন্দ্রর কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শ্রীরাম রাঘবন। তিনি জানান, “ধর্মেন্দ্রজি ছিলেন একেবারে ওল্ড স্কুল ঘরানার অভিনেতা। নিজের সংলাপ তিনি উর্দুতে লিখে নিতেন। শুধু নিজের নয়, সহ-অভিনেতাদের সংলাপও লিখে রাখতেন। কাজের জন্য তাঁর প্রস্তুতি ছিল অসাধারণ।” এই পেশাদারিত্বই তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়কে তিনি শুধু পেশা নয়, সাধনা হিসেবেই দেখেছেন।
আজীবনের আক্ষেপ পরিচালকের (Dharmendra)
পরিচালক স্বীকার করেছেন, ধর্মেন্দ্র পুরো ছবিটি দেখে যেতে না পারার দুঃখ তাঁকে আজীবন তাড়া করবে। রাঘবনের কথায়, “আজ যখন মানুষ ওঁর কাজের প্রশংসা করবেন, তখন তা উপভোগ করার জন্য উনি আর আমাদের মধ্যে নেই। এই আক্ষেপ আজীবন থেকে যাবে।” একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় বেদনা বোধহয় আর কিছু হতে পারে না।
বলিউডের সোনালি অধ্যায়ের অবসান (Dharmendra)
গত ২৪ নভেম্বর, মুম্বইয়ের জুহুর নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডের এক সোনালি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি দর্শকের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন, তাঁর বিদায়ে শূন্যতা অপূরণীয়।

আরও পড়ুন: SIR Draft: SIR-এর খসড়া তালিকায় পদবি-হীন মন্ত্রী শোভনদেব
হেমা মালিনীর হৃদয়ছোঁয়া বার্তা
ধর্মেন্দ্রর জন্মদিনে স্ত্রী হেমা মালিনীর লেখা একটি আবেগঘন বার্তা মন ছুঁয়ে যায়। তিনি লেখেন, “ধরমজি, শুভ জন্মদিন আমার প্রাণের মানুষ। তুমি আমাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের বেশি কেটে গিয়েছে। আমি ভেঙে পড়া মনকে তিলে তিলে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছি। আমি জানি তুমি আত্মারূপে সবসময় আমার সঙ্গেই রয়েছ।” এই কথাগুলিই বুঝিয়ে দেয়, পর্দার বাইরেও ধর্মেন্দ্র ছিলেন এক গভীর অনুভূতির মানুষ।



