Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা কিছুটা কমার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নয়াদিল্লি–ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া ঠেকাতে চায় চীন(Pentagon)। মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপিত চীনের সামরিক উন্নয়ন সংক্রান্ত এই প্রতিবেদনে অরুণাচল প্রদেশকে চীনের তথাকথিত “মূল স্বার্থ”-এর অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন (Pentagon)
প্রতিবেদনে বলা হয়, লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) বরাবর উত্তেজনা কমালেও বেজিং পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং একই সঙ্গে নিজের পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত জোরদার করছে। পেন্টাগনের মতে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা ঠেকাতেই চীন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ‘উষ্ণতা’ দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের প্রভাব মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখে আসছে।
বৈঠকে পরিস্থিতি সামালের চেষ্টা (Pentagon)
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত–চীন সম্পর্কের বড় অবনতি ঘটে। পরে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়। গত অক্টোবর এলএসি-তে টহল সংক্রান্ত সমঝোতার ফলে পূর্ব লাদাখে দুই দেশের সেনা বিচ্ছিন্নকরণ সম্ভব হয়। এর পরই রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়, যা ২০২০-এর পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় বাধা অবিশ্বাস (Pentagon)
তবে পেন্টাগনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত এখনও চীনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সীমান্ত ইস্যু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনটি চীনের আঞ্চলিক দাবিকেও “উদ্বেগজনক” বলে আখ্যা দিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগরের বড় অংশ ও সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জকে চীন তার সার্বভৌমত্বের অংশ বলে দাবি করছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘গ্রে জোন’ কৌশলে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বেইজিং।
দ্রুত বাড়ছে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার (Pentagon)
এছাড়া চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালের শেষে চীনের কাছে ৬০০-র বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে পেন্টাগনের আশঙ্কা। এই “ঐতিহাসিক” সামরিক শক্তিবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।



