Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মরুভূমির বুকে সাদা বরফের আস্তরণ দৃশ্যটি প্রথম দেখায় যেন কোনও কল্পবিজ্ঞান ছবির দৃশ্য (Saudi Arabias Snowfall)। পাহাড়, উপত্যকা, এমনকি রাস্তার ধারে জমে থাকা তুষার সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলকে একেবারেই চিনতে না পারার মতো করে তুলেছে। তাবুক এবং তার পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাপমাত্রা নেমে যায় বহু ডিগ্রি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্থানীয় প্রশাসন জারি করে আবহাওয়া সতর্কতা, সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। কেউ বিস্ময়ে হতবাক, কেউ আনন্দে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের চোখে এই দৃশ্য মোটেও উৎসবের নয় বরং এটি এক গভীর বিপদের পূর্বাভাস।

জলবায়ু পরিবর্তন মানেই শুধু গরম নয় (Saudi Arabias Snowfall)
সাধারণভাবে জলবায়ু পরিবর্তন বলতে আমরা বুঝি ক্রমশ বেড়ে চলা গরম। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণা অসম্পূর্ণ। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে জমা হচ্ছে অতিরিক্ত শক্তি ও জলীয় বাষ্প। এই অতিরিক্ত শক্তিই আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দকে ভেঙে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ কোথাও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, কোথাও লাগাতার অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও হঠাৎ তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। মরুভূমির মাঝে তুষারপাত এই অস্বাভাবিকতারই একটি চরম উদাহরণ। প্রকৃতি যেন তার পুরনো নিয়ম মানতে অস্বীকার করছে।
চরমতার ধারাবাহিকতা (Saudi Arabias Snowfall)
এই আবহাওয়ার অস্থিরতা চলতি বছর ভারতও ভয়াবহভাবে অনুভব করেছে। উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, কৃষক ও শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। কৃষিক্ষেত্রেও নেমে এসেছে বড় ধাক্কা ফসল পুড়ে নষ্ট হয়েছে, সেচের জল সংকট বেড়েছে। এরপর বর্ষা শুরু হতেই হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি। উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও সিকিমে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং রাস্তা ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে বহু মানুষের। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, নদীর গতিপথ পর্যন্ত বদলে গেছে।

ভেঙে পড়ছে ঋতুচক্রের নির্ভরতা (Saudi Arabias Snowfall)
ভারতের মতো দেশে কৃষি, পানীয় জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শহরের নিকাশি ব্যবস্থা সবকিছুই নির্দিষ্ট ঋতুচক্রের উপর নির্ভরশীল। কখন বর্ষা আসবে, কতদিন চলবে, কতটা বৃষ্টি হবে এই পূর্বানুমানের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে পরিকল্পনা। কিন্তু সেই ছক ভেঙে গেলে ক্ষতির বহর বহুগুণ বেড়ে যায়। কখনও ফসল নষ্ট হয় অতিবৃষ্টিতে, কখনও খরায় মাঠ ফেটে যায়। শহরে হঠাৎ বৃষ্টিতে জল জমে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, আবার গ্রীষ্মে তীব্র গরমে বাড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ও জলসংকট।
বিশ্বজুড়ে একই সংকটের প্রতিধ্বনি (Saudi Arabias Snowfall)
সৌদি আরবের তুষারপাত কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আফ্রিকার বহু অঞ্চলে কখনও চরম খরা, আবার কখনও অতিবৃষ্টিতে ধ্বংস হচ্ছে কৃষি ও পশুপালন ব্যবস্থা। দক্ষিণ আমেরিকায় অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ব্যাহত করছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিপন্ন হচ্ছে বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য। দাবানল, জলাভাব ও খাদ্যসংকট একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: Thailand Cambodia Border: থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সংঘাতে ভারতের উদ্বেগ
দেশগুলির উপর সবচেয়ে বড় আঘাত
এই বৈশ্বিক জলবায়ু সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলি। ঘন জনবসতি, দুর্বল পরিকাঠামো এবং জলবায়ু-নির্ভর জীবিকার কারণে সামান্য আবহাওয়ার বিচ্যুতিও এখানে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়। এই বৈষম্যের প্রশ্নটি সম্প্রতি ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত COP30 জলবায়ু সম্মেলনেও বিশেষ গুরুত্ব পায়। উন্নত দেশগুলির ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণের দায় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষয়ক্ষতির ভার এই দ্বন্দ্ব এখনও সমাধানের অপেক্ষায়।



