Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এক সময় যাঁকে কার্যত ‘ঘরছাড়া’ হতে হয়েছিল, যাঁর হাত থেকে খুলে নেওয়া হয়েছিল দলীয় কার্যালয়ের ঘর, এসি-টিভি সেই দিলীপ ঘোষই ফের ফিরলেন আলোচনার কেন্দ্রে (Dilip Ghosh)। রাজনীতিতে সময় বড়ই নির্মম, আবার বড়ই সুযোগসন্ধানী। বছর দুয়েক আগে মুরলীধর সেন লেনের বিজেপি কার্যালয় থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। কিন্তু সময় বদলেছে। শাহী বৈঠকের পর রাজ্য রাজনীতিতে ফের নিজের জায়গা করে নিলেন বঙ্গ বিজেপির একদা ‘অপরিহার্য মুখ’।

কেন দিলীপকে উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয় (Dilip Ghosh)
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাতে আর কয়েক মাস (Dilip Ghosh)। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির প্রত্যাশিত ফল না পাওয়াই চোখ খুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। দিলীপ ঘোষের ক্যারিশ্মা উপেক্ষা করলে যে আদতে দলেরই ক্ষতি, তা বুঝে গিয়েছেন মোদি-শাহ শিবির। সেই কারণেই খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি উদ্যোগী হয়ে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বার্তাটা ছিল স্পষ্ট, নিজেদের দ্বন্দ্বে ভর করে ছাব্বিশে কোনও ভরাডুবি বরদাস্ত করা হবে না। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গেই লড়তে হবে। এই ‘মানভঞ্জন’ শুধু সৌজন্যমূলক নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
রাজনীতিতে ফের কেন্দ্রবিন্দু (Dilip Ghosh)
মুরলীধরে ‘ভিটেহারা’ দিলীপ ঘোষ এবার সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য কার্যালয়ে পেলেন নিজের ঘর। আপাতদৃষ্টিতে এটি প্রতীকী হলেও, রাজনীতিতে প্রতীকের গুরুত্ব অপরিসীম। দলীয় সূত্রেই মানা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়েই দিলীপকে ফের মূল স্রোতে ফেরানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ নিজেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “দলের জন্য আমি ছিলাম, আছি, থাকব।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট তাঁর রাজনৈতিক পুনরাগমনের আত্মবিশ্বাস।
জোন নাকি রাজ্য কমিটি— কোথায় দিলীপ? (Dilip Ghosh)
রাজ্যজুড়ে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো পাঁচটি জোনে ভাগ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। শোনা গিয়েছিল, এই পাঁচ জোনের একটির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে দিলীপ ঘোষকে। কিন্তু সেখানেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। দীর্ঘদিন রাজ্য সভাপতি থাকার পর যদি তাঁকে শুধু একটি জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মন ভাঙতে পারে তাঁর অনুগামীদের। আর দিলীপ ঘোষ মানেই এক বিশাল কর্মীভিত্তি যাঁরা তাঁর সঙ্গে সংগঠন ছেড়েছিলেন, আবার তাঁর ফেরাতেই মাঠে নামতে প্রস্তুত। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত সতর্ক। তাই এখন জোর আলোচনা চলছে দিলীপ ঘোষকে রাজ্য কমিটিতে বড়সড় দায়িত্ব দেওয়ার। যদিও এখনও সবটাই ধোঁয়াশার মধ্যেই।

আরও পড়ুন: Army Operation Poonch: পুঞ্চে ফের একবার বড় সাফল্য সেনার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল সন্ত্রাসী আস্তানা!
মঞ্চে ফিরছে ‘ভোকাল টনিক’
শুধু পদ বা ঘর দেওয়াই নয়, দিলীপ ঘোষকে সামনে রেখেই ছাব্বিশের রাজ্যজুড়ে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। দীর্ঘদিন মোদি-শাহের সভামঞ্চে যাঁকে দেখা যায়নি, সেই দিলীপকে ফের পুরনো ফর্মে নামানো হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, মঞ্চ থেকে দিলীপ ঘোষ কর্মী-সমর্থকদের যে ‘ভোকাল টনিক’ দিতে পারেন, তা অন্য অনেক নেতার পক্ষেই সম্ভব নয়। বিক্ষুব্ধ কর্মী, নিস্তেজ সংগঠন এই সবকিছুকে চাঙ্গা করতেই দিলীপকে ফের কাজে লাগাতে চাইছে পদ্মশিবির।



