Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হুমকি ইমেল, আতঙ্কের আবহ, কড়া নিরাপত্তার সতর্কতা সবকিছুকে কার্যত ডোন্ট কেয়ার করেই শুক্রবার সকালে খাস কলকাতার রাস্তায় নেমে পড়লেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)। সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে, নামমাত্র নিরাপত্তা নিয়ে ডেকার্স লেনে হাজির হয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

হুমকি ইমেল ও প্রশাসনিক তৎপরতা (C V Ananda Bose)
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লোকভবন সূত্রে জানা যায়, রাজ্যপালের দপ্তরে একটি হুমকি ইমেল পৌঁছয়। সেখানে স্পষ্টভাবে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন সংবেদনশীল হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। রাতেই রাজ্যপালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা জরুরি বৈঠকে বসেন। রাজ্যপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি জানানো হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও। কে বা কারা এই ইমেলের নেপথ্যে রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।

রাজ্যপালের স্পষ্ট অবস্থান (C V Ananda Bose)
হুমকির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন রাজ্যপাল নিজে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভয় দেখিয়ে তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ করা যাবে না। অন্যান্য দিনের মতোই শুক্রবার সকালে তিনি পথে নামবেন বলেও ঘোষণা করেন। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে নিজেকে বন্দি না রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকাই তাঁর বিশ্বাস। এই বক্তব্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল শুক্রবার সকালের ঘটনাপ্রবাহের ইঙ্গিত।
নামমাত্র নিরাপত্তায় ডেকার্স লেনে রাজ্যপাল (C V Ananda Bose)
শুক্রবার সকালে বাস্তবেই দেখা গেল সেই চিত্র। লোকভবন থেকে বেরিয়ে রাজ্যপাল সোজা চলে যান এসপ্ল্যানেডের অত্যন্ত পরিচিত ডেকার্স লেনে। শহরের ঐতিহ্যবাহী এই খাদ্যপল্লিতে নামমাত্র নিরাপত্তা নিয়েই ঘুরে বেড়ান তিনি। ডেকার্স লেনের বিখ্যাত চিত্তবাবুর দোকানে ঢুকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসেই প্রাতঃরাশ সারেন রাজ্যপাল। কোনও আলাদা আয়োজন নয়, কোনও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় নয় একেবারে আটপৌরে ভঙ্গিতে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় (C V Ananda Bose)
প্রাতঃরাশের ফাঁকেই রাজ্যপাল কথা বলেন ডেকার্স লেনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। তাঁদের খোঁজখবর নেন, দৈনন্দিন সমস্যার কথা শোনেন। শুধু তাই নয়, সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেন চকোলেট। রাজ্যপালকে এত কাছ থেকে, এত সহজভাবে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। অনেকেই বলেন, এমন মুহূর্ত জীবনে বিরল যেখানে রাজ্যপাল কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: Iran: ইরানে আর্থিক সঙ্কট, দেশজুড়ে বিক্ষোভ: সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে টলমল খামেইনির চেয়ার
প্রতীকী বার্তা ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই ঘটনার রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য অস্বীকার করার উপায় নেই। হুমকির মুখেও প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে আসা রাজ্যপালের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন সাহসিকতার বার্তা দেয়, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের দর্শনকে সামনে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুই ব্যক্তিগত সাহস প্রদর্শন নয় বরং হুমকি ও আতঙ্কের রাজনীতির বিরুদ্ধে এক প্রতীকী প্রতিবাদ। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্তর থেকে সমাজ পর্যন্ত এক স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেয় ভয় দেখিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বা সাংবিধানিক পদকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।



