Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আওয়ামি লিগের নেতা ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী প্রলয় চাকি রবিবার রাতে পুলিশ হেফাজতে মারা গেলেন(Bangladesh)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত থাকায় তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রলয় চাকির পরিবার এই দাবি নাকচ করে দিয়ে অভিযোগ করেছে, হেফাজতে থাকাকালীন চিকিৎসার অভাবে এবং চরম অবহেলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মানবাধিকার ও হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন (Bangladesh)
প্রলয় চাকির মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশজুড়ে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ইসলামপন্থীদের সমর্থনে গঠিত অন্তর্বর্তী নেতা মহম্মদ ইউনুসের সরকারের বিরোধীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চলছেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অস্থিরতার এই প্রেক্ষাপটে তাঁর মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার ও হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে।
গত ডিসেম্বরে গ্রেফতার হন প্রলয় চাকি
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রলয় চাকি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তিনি ডিসেম্বর মাস থেকে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় চলা আন্দোলনের মধ্যে একটি বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
‘একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন’ (Bangladesh)
পাবনা কারাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মহঃ ওমর ফারুক জানান, প্রলয় চাকি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর কথা অনুযায়ী, শুক্রবার চাকি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে রবিবার রাত প্রায় ৯টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
একাধিক অভিযোগ পরিবারের (Bangladesh)
তবে প্রলয় চাকির ছেলে সনি চাকি অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার অসুস্থতার কথা পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। “আমরা অন্যদের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু ততক্ষণে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় বাবার মৃত্যু হয়,” বলেন তিনি। সনি আরও জানান, গ্রেফতারের সময় তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কোনও মামলাতেই নাম ছিল না।
আরও পড়ুন: I-PAC Raid: আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডি-রাজ্য সংঘাত আরও বাড়ল, সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের ইডির
আওয়ামি লিগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক (Bangladesh)
প্রলয় চাকি শুধু জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীই নন, তিনি পাবনা জেলা আওয়ামি লিগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন এবং নব্বইয়ের দশক থেকেই একজন সক্রিয় সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও হামলার শিকার হয়েছে।



