Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা (Sukma Operation) বাহিনী। ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলায় ফের আত্মসমর্পণের ঘটনা। বুধবার সুকমায় জেলা পুলিশ এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স—সিআরপিএফের আধিকারিকদের সামনে আত্মসমর্পণ করেন মোট ২৯ জন মাওবাদী। প্রশাসনের দাবি, লাগাতার অভিযান এবং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলার ফলেই মাওবাদীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছেন।
তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে (Sukma Operation)
সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বান (Sukma Operation) জানিয়েছেন, জেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গোগুন্ডা-সহ একাধিক অরণ্যঘেরা এলাকায় নতুন করে সিআরপিএফ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাম্পগুলি থেকেই নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের ফলে মাওবাদীদের গতিবিধি সীমিত হয়ে পড়ে এবং সংগঠনের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়।

পুনর্বাসন কর্মসূচি (Sukma Operation)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী (Sukma Operation) মাওবাদীদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরাতে রাজ্য সরকারের তরফে ‘লোন ভারাতু’ এবং ‘পুনা মারগেম’—এই দুই পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু রয়েছে। বুধবার আত্মসমর্পণকারীরা ‘পুনা মারগেম’ প্রকল্পের অধীনেই পুলিশ ও সিআরপিএফ আধিকারিকদের সামনে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ২৯ জন মাওবাদী মূলত মাওবাদীদের গ্রাম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের হয়ে কাজ করছিলেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম (Sukma Operation)
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল গোগুন্ডা এলাকার দণ্ডকারণ্য আদিবাসী কিষাণ মজদুর সংগঠন (DAKMS)-এর প্রধান পডিয়াম। তিনি মাওবাদীদের একটি সম্মুখ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তাঁর মাথার জন্য ২ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

এছাড়াও আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন DAKMS-এর সক্রিয় সদস্য, মাওবাদী মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য এবং মাওবাদীদের তথাকথিত ‘জনতা সরকার’ শাখার কর্মীরা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি নীতি অনুযায়ী তাঁদের সকলকেই পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ দেওয়া হবে।
নতুন নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গোগুন্ডা এলাকায় সম্প্রতি একটি নতুন নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন করার পর থেকেই মাওবাদীদের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। এলাকায় নিয়মিত টহল, তল্লাশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারির ফলে মাওবাদীরা কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়েই তাঁরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশের দাবি। উল্লেখ্য, দুর্গম অরণ্যাঞ্চল হওয়ার কারণে গোগুন্ডা এলাকা এক সময় মাওবাদীদের দর্ভা বিভাগের একটি নিরাপদ ও কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হতো। প্রশাসনের দাবি, নতুন করে ক্যাম্প স্থাপন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতির ফলে ওই অঞ্চলে মাওবাদীদের সংগঠন ও কার্যকলাপ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: 15 January Horoscope: কূর্ম দ্বাদশীতে চাঁদের রাশি পরিবর্তনে কার ভাগ্য খুলবে, কার সতর্ক থাকা জরুরি?
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ছত্তিসগড়ে একের পর এক মাওবাদী আত্মসমর্পণের ঘটনা সামনে আসছে। চলতি মাসের ৯ তারিখে দান্তেওয়াড়ায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন ৬৩ জন মাওবাদী। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন মহিলা ছিলেন। ওই আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ৩৬ জনের মাথার দাম ছিল এক কোটি ১৯ লক্ষ টাকারও বেশি। তার আগে ৭ জানুয়ারি সুকমা জেলাতেই আত্মসমর্পণ করেন আরও ২৬ জন মাওবাদী। কেন্দ্রীয় সরকার চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত বছরেই ছত্তিসগড়ে আত্মসমর্পণ করেছেন দেড় হাজারেরও বেশি মাওবাদী। প্রশাসনের আশা, লাগাতার অভিযান, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং পুনর্বাসন নীতির মাধ্যমে আগামী দিনে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও সুদৃঢ় হবে।


