Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওডিশার সম্বলপুর জেলার ভীমমণ্ডলী (Traces of Stone Age Sambalpur) পাহাড়ে শুরু হওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ভারতের প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে গবেষকদের। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাহাড়ের গুহা–চত্বরের নীচে লুকিয়ে রয়েছে অন্তত ১০ হাজার বছর পুরোনো নব্যপ্রস্তর যুগের সমসাময়িক মানবসভ্যতার অবশেষ। এই আবিষ্কার ভারতের প্রাচীনতম সভ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিশ্বাস (Traces of Stone Age Sambalpur)
দীর্ঘদিন ধরেই ভীমমণ্ডলী পাহাড়কে ঘিরে নানা (Traces of Stone Age Sambalpur) কিংবদন্তি প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিশ্বাস ছিল, মহাভারতের যুগের সঙ্গে এই এলাকার গুহাগুলির কোনও যোগ রয়েছে। পর পর কয়েকটি গুহার দেওয়ালে খোদাই করা রহস্যময় চিহ্ন, অক্ষরের মতো দাগ এবং আঁকা–বাঁকা রেখা দেখে গ্রামবাসীরা সেই বিশ্বাসে আরও দৃঢ় হয়েছিলেন। যদিও এতদিন সেই ধারণার পেছনে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানেই প্রথমবারের মতো এই গুহাগুলির প্রকৃত ঐতিহাসিক গুরুত্ব সামনে আসতে শুরু করেছে।

এএসআই সূত্রে জানা গিয়েছে (Traces of Stone Age Sambalpur)
এএসআই সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক সমীক্ষায় (Traces of Stone Age Sambalpur) ভীমমণ্ডলী এলাকায় ৪৫টিরও বেশি পাথুরে গুহা বা রক শেল্টার চিহ্নিত করা হয়েছে। এই গুহাগুলির দেওয়ালে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক শিল্পকর্মের নিদর্শন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন শিল্পীরা লৌহ অক্সাইডের সঙ্গে গাছের ছাল ও পাতার রস মিশিয়ে প্রাকৃতিক রঞ্জক তৈরি করে এই ছবি আঁকতেন। গুহার দেওয়ালে আঁকা চিত্রগুলিতে তৎকালীন বনের পরিবেশ, শিকার, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের নানা দৃশ্য ফুটে উঠেছে। গবেষকদের ধারণা, এই শিল্পকর্মগুলি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব ও অভিজ্ঞতার চিহ্ন রেখে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি করেছিলেন প্রাগৈতিহাসিক মানুষ।
গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের সন্ধান
খননকাজে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পাথরের তৈরি তীর, ছুরি ও বর্শার ভগ্নাংশ, চামড়ার কাজের জন্য ব্যবহৃত ব্লেড ও সূচ, পাশাপাশি মাংস থেকে চামড়া ছাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত স্ক্র্যাপার। এএসআই দলের সদস্য অনিল সোয়াইন জানিয়েছেন, এই সমস্ত অস্ত্র ও সরঞ্জামের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের জন্য কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে ভীমমণ্ডলীর সভ্যতার সময়কাল নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

মূল্যবান নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
এএসআই-এর সুপারিনটেন্ডিং আর্কিওলজিস্ট ডি বি গডনায়ক জানান, অনুসন্ধান ও খননকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় বহু মূল্যবান নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে পুরো খননকাজই হাতে হাতে করা হচ্ছে। এর ফলে কাজের গতি খুব ধীর। প্রতিদিন গড়ে মাত্র এক সেন্টিমিটার করে মাটি সরানো সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: Fire in Himalaya: শীতের মাঝেই জ্বলছে হিমালয়, ভয়াবহ দাবানলে আতঙ্ক উত্তরাখণ্ডে
ভীমমণ্ডলীর প্রাগৈতিহাসিক গুরুত্ব ইতিমধ্যেই শিক্ষামহল ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী সংস্থার নজর কেড়েছে। গঙ্গাধর মেহের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর কালচারাল হেরিটেজ (ইনট্যাক) এই এলাকার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে আলোকপাত করেছে। কার্বন ডেটিংয়ের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের অপেক্ষায় এখন প্রত্নতত্ত্ব মহল। এর মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা ভীমমণ্ডলী এলাকাকে ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ মনুমেন্ট’ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলেছেন। তাঁদের আশা, জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেলে এই ঐতিহাসিক স্থানের সংরক্ষণ যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনই দেশের প্রাচীন ইতিহাস চর্চায় ভীমমণ্ডলী একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।


