Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় বীমা, বেতন সহ একাধিক দাবি নিয়ে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে দিবারাত্রি ধর্নায় বসতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা। শর্তসাপেক্ষে কলেজ স্ট্রিটের পরিবর্তে কলেজ স্কোয়ারে অবস্থান-ধর্নার অনুমতি দিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা (Calcutta High Court)
বীমা, বেতন সহ একাধিক দাবি নিয়ে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে দিবারাত্রি ধর্নায় বসতে চলেছে সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা। কিন্তু পুলিশ সেই অনুমতি না দেওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন তাঁরা।বুধবার ধর্নার অনুমতি চেয়ে বিচারপতি কৃষ্ণরাও এর দ্বারস্থ হয় ধর্নাকারীদের সংগঠন। মামলাকারীদের আইনজীবী কৌস্তব বাগচী আদালতে জানান পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ধরনায় বসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগর মূর্তির সামনে দিন-রাত ধর্না দিতে চান।
রাজ্যের আইনজীবীর দাবি (Calcutta High Court)
রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান ইতিমধ্যেই এই সংগঠন গত ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। সে ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশেই ২০১৮ সাল থেকে কলেজ স্ট্রিট অঞ্চলটিতে ১৬৩ ধারা মোতায়েন রয়েছে। সেখানে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ রয়েছে। বিয়ের বিশাল বাজার রয়েছে। সেই কারণে প্রচুর মানুষ প্রতিদিন সেখানে যাতায়াত করেন। তাই টানা ১৫ দিন ধরে ২৪ ঘন্টা অবস্থান চললে ছাত্র-ছাত্রী সহ সাধারণ মানুষের প্রচুর সমস্যা হবে। আর আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চমাধ্যমিক শুরু। অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষাও শুরু হচ্ছে। তাই কলেজ স্ট্রিটে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। আবেদনকারীরা জানিয়েছে দাবি-দাওয়া নিয়ে তাঁরা নবান্নে ৩১ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের কাছে ডেপুটেশন দিতে চান। মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্য সচিব লিখিত আশ্বাস দিলে তবেই তাঁরা ধর্না তুলে নেবেন। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য এইভাবে ধর্নার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি
মামলাকারীর আইনজীবী তখন বলেন, আদালত নবান্নের কাছে মন্দির তলায় ১৬৩ ধারা বলবৎ এলাকাতেই সভার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বিচারপতি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কলেজ স্ট্রিটে টানা ১৫ দিন ধরে ধর্নার অনুমতি দেবেন না। এই কর্মসূচির জন্য বিকল্প জায়গা জানতে চান বিচারপতি। বিকল্প জায়গা হিসেবে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের নাম বলা হয় মামলাকারীদের পক্ষ থেকে। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের হয়রানির যুক্তি দেখিয়ে সেখানেও আপত্তি জানায় রাজ্য।
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee: সিঙ্গুরের মাটি থেকে বিজেপিকে রুখে দেওয়ার শপথ মমতার!
‘সাধারণ মানুষের অসুবিধা করা যাবে না’
বিচারপতি রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে মামলাকারীর আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে কিছু করা যাবে না। শুধু বিক্ষোভ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? আপনার সংস্থাকে বলুন তাদের দাবি নিয়ে আদালতে আসতে। আদালত তাদের দাবি শুনবে।’ মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতকে অনুরোধ করেন, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগঠনের কর্মীরা কলকাতায় চলে এসেছেন। আর ২৪ ঘণ্টাও নেই। তাই আদালত নির্দেশ দিক।
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee: সিঙ্গুর থেকে মমতার স্পষ্ট বার্তা: কৃষিজমি নয়, শিল্প হবে বিকল্প জমিতে
শর্তসাপেক্ষে ধর্নার অনুমতি
তখন বিচারপতি রাও বলেন, ১৫ দিন ধরে ধর্না করতে গেলে স্থায়ী মঞ্চ করতে হবে। তারজন্য কর্পোরেশন, দমকল সহ সমস্ত সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি প্রয়োজন। এরপরই দুই পক্ষকে আলোচনা করে বিকল্প জায়গা ঠিক করার নির্দেশ দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। পরে ১৫ দিনের পরিবর্তে ২৯ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪ দিন কলেজ স্কোয়ারে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেশকিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত। ধর্নায় ৭০ জনের বেশি যোগ দিতে পারবেন না। কোনও মাইক ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়াও মানতে হবে দূষণবিধি সহ অন্যান্য শর্ত।


