Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসানের এক মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে (Malaysia)। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপ, সামাজিক প্রভাব এবং ধর্মাচরণের ঘাটতির কারণে মানুষ এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে কাজের চাপের সঙ্গে কি সত্যিই যৌন পরিচয়ের কোনও সম্পর্ক আছে? নাকি এটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর ধারণা?

সংসদে উত্থাপিত বক্তব্য ও তার প্রেক্ষাপট (Malaysia)
মালয়েশিয়ার সংসদে এলজিবিটি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল বিরোধী ইসলামপন্থী দল পাস-এর এক সাংসদের তরফে। সেই প্রশ্নের উত্তরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, কাজের চাপ, সামাজিক পরিবেশ, যৌন অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের অভাব মানুষকে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের দিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই বক্তব্য এমন এক দেশে এসেছে, যেখানে এখনও সমলিঙ্গ সম্পর্ক আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এলজিবিটি বিষয়ক আলোচনাই সেখানে মূলত ‘আইনশৃঙ্খলা’ ও ‘নৈতিকতা’র চোখে দেখা হয়।
মালয়েশিয়ার আইন ও সামাজিক অবস্থান (Malaysia)
মালয়েশিয়ায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে চালু থাকা দণ্ডবিধির ধারা অনুযায়ী সমলিঙ্গ সম্পর্ক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক ধর্মীয় আইনেও এই সম্পর্ক নিষিদ্ধ। এই আইনি কাঠামোর কারণেই এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষরা সামাজিকভাবে প্রান্তিক ও ভয়ের মধ্যে বসবাস করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এলজিবিটি সংক্রান্ত অভিযোগে শতাধিক গ্রেপ্তার ও মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই পরিসংখ্যান আসলে ভয় ও দমননীতিরই প্রতিফলন।

বিজ্ঞান কী বলছে যৌন পরিচয় নিয়ে (Malaysia)
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান স্পষ্টভাবে জানায় যৌন অভিমুখিতা কোনও পরিস্থিতিগত অভ্যাস নয়। এটি মানুষের স্বাভাবিক পরিচয়ের অংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯০ সালেই সমকামিতাকে মানসিক রোগের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, যৌন পরিচয়ের সঙ্গে কাজের চাপ, পেশাগত ক্লান্তি বা সামাজিক ব্যস্ততার কোনও কারণগত সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ অতিরিক্ত কাজ করলে কেউ সমকামী হয়ে যায় এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ভুল ধারণার বিপদ! (Malaysia)
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজের চাপ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে যেমন উদ্বেগ, অবসাদ বা বার্নআউট। কিন্তু সেই চাপ থেকে যৌন পরিচয় বদলে যাওয়ার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এই ধরনের মন্তব্য সমাজে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কুসংস্কার আরও গভীর করে। ফলে বৈষম্য, ঘৃণামূলক আচরণ এবং আইনি নিপীড়নের ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুন: Ajit Pawar: শোকস্তব্ধ বারামতি, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষযাত্রা, চিরবিদায় অজিত পাওয়ারের…
মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
জাস্টিস ফর সিস্টার্সসহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এই মন্তব্যকে “ভ্রান্ত ও বিপজ্জনক তথ্য” বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থান থেকে এমন মন্তব্য করলে সমাজে ভুল বার্তা যায় এবং এলজিবিটি মানুষদের নিরাপত্তা আরও বিপন্ন হয়। তাঁদের দাবি, যৌন পরিচয় বোঝার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, মানবাধিকার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।



