Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আনন্দপুরের মোমো কারখানা ও ডেকরেটর গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire) ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পরতে পরতে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রশাসনিক গাফিলতির নমুনা। এই ঘটনায় আরও দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম মনোরঞ্জন শিট (ম্যানেজার) এবং রাজা চক্রবর্তী (ডেপুটি ম্যানেজার)। বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকা থেকে তাঁদের পাকড়াও করা হয়। এর আগে ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
বাইরে থেকে বন্ধ ছিল দরজা (Anandapur Fire)
তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো তথ্য হল—অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire) রাতে কারখানার দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। অভিযোগ, কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের কাজ করতে পাঠিয়ে বাইরে থেকে শিকল তুলে দেওয়া হয়েছিল। আগুন লাগার পর ভেতরে থাকা অসহায় মানুষগুলো প্রাণপণে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করলেও সেই তালাবন্ধ দরজা যমদূতের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। এমনকি মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে শ্রমিকরা ফোনে পরিজনদের জানিয়েছিলেন তাঁদের শেষ পরিণতির কথা। কেন এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আজ, শুক্রবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
আরও পড়ুন:https://ktvbangla.com/captain-parthasarathy-slams-govt-on-nazirabad-fire/
এদিকে আগুনের লেলিহান শিখা নিভে গেলেও আনন্দপুরের ওই ‘জতুগৃহ’ থেকে একের পর এক বেরোচ্ছে মানুষের দেহাংশ। গত পাঁচ দিনে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও চারটি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে (Anandapur Fire)। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার করল পুলিশ। এই দেহাংশগুলি এতটাই বিকৃত যে চেনার উপায় নেই। তাই পরিচয় নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:https://ktvbangla.com/nazirabad-fire-incident-mother-dog-searches-wards/
নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে নতুন করে অশান্তি এড়াতে এবং তদন্তের স্বার্থে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ করা হয়েছে। আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই নির্দেশিকা জারি থাকবে। ৪ ফেব্রুয়ারি মালিক গঙ্গাধর দাসকে পুনরায় আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ মনে করছে, ধৃত ম্যানেজারদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে জানা যাবে সেই রাতে কতজন শ্রমিক ভেতরে ছিলেন এবং কার নির্দেশে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করা হয়েছিল। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে গোটা এলাকা এখন পুলিশি ঘেরাটোপে।


