Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জীবন কখনও থেমে থাকে না এই নির্মম সত্যকে বুকে নিয়েই এগোতে হয় মানুষকে। প্রয়াত অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার পরিবারও তার ব্যতিক্রম নয় (Sabyasachi Chowdhury)। গভীর শোক, দীর্ঘ নিঃসঙ্গতা আর না বলা যন্ত্রণার পর ধীরে ধীরে নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সেই আবহেই মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি আইনি বিয়ে সারলেন ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্য শর্মা। বিয়ের এই মুহূর্তে পরিবারের পাশে যেন অদৃশ্য ছায়ার মতো উপস্থিত ছিলেন ঐন্দ্রিলা নিজেই তারই ছবির সামনে শপথ নিলেন দিদি।
বিয়ের আসরে আবেগ (Sabyasachi Chowdhury)
এই বিয়ে ছিল না কোনও জাঁকজমকের আয়োজন। ছিল না আড়ম্বর। ছিল শুধু স্মৃতি, আবেগ আর ভালবাসা। বোনের ছবি সামনে রেখে আইনি বিয়ে সারেন ঐশ্বর্য। পাত্র দিব্যজিৎ দত্ত পেশায় চিকিৎসক। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার মুহূর্তে ঐশ্বর্যের চোখে-মুখে ধরা পড়ে আবেগের ছাপ। সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর। তিনি বলেন, “বোন থাকলে ওর বিয়েটাই আগে হত সব্যসাচীর সঙ্গে। আমার বিয়ের যাবতীয় পরিকল্পনাও ও-ই করত। আমাকে কিছুই ভাবতে হত না।” এই কথাতেই যেন ধরা পড়ে দুই বোনের গভীর আত্মিক সম্পর্ক।
দীর্ঘদিন পর শর্মা পরিবারে সব্যসাচীর (Sabyasachi Chowdhury)
এই বিয়ের আসরেই বহুদিন পর দেখা গেল ঐন্দ্রিলার প্রেমিক, অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরীকে। সাদা শার্ট ও নীল ডেনিমে পরিচিত, চেনা মেজাজেই উপস্থিত ছিলেন তিনি। ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন সব্যসাচী। প্রিয় মানুষের চলে যাওয়া তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। সেই সময় থেকে নিজেকে সমস্ত কিছুর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে আবার জীবনের মূল স্রোতে ফিরছেন সব্যসাচী। নতুন করে কাজ শুরু করেছেন। আর এদিন, শর্মা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতি যেন অতীত আর বর্তমানের এক আবেগঘন সংযোগ।

তোজো-বোজোর আদরে ভরল মন (Sabyasachi Chowdhury)
সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্তটি তৈরি হয় তখনই, যখন সব্যসাচীকে দেখামাত্র ছুটে আসে ঐন্দ্রিলার প্রিয় দুই চারপেয়ে তোজো আর বোজো। বহুদিন পর প্রিয় মানুষটিকে সামনে পেয়ে আদরে ভরিয়ে দেয় তারা। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। কিছুক্ষণ ধরে তোজো-বোজোকে নিয়েই সময় কাটান সব্যসাচী। সেই দৃশ্য দেখে অনেকেরই চোখ ভিজে ওঠে। কারণ এই দুই পোষ্য শুধু প্রাণী নয় ঐন্দ্রিলার স্মৃতির জীবন্ত অংশ।
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই (Sabyasachi Chowdhury)
ঐন্দ্রিলা শর্মা বহু বছর আগেই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কঠিন চিকিৎসার পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন তিনি। কাজেও ফিরেছিলেন, হাসিখুশি জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালের শেষদিকে আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ঐন্দ্রিলা। সেই সময় প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরী দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন প্রিয় মানুষটিকে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে আনবেনই। কিন্তু নিয়তির কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাঁকে। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর থেমে যায় ঐন্দ্রিলার জীবন।

আরও পড়ুন: Ranbir Kapoor Ramayana: রামনবমীর মাহেন্দ্রক্ষণেই রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’-এর মহাযাত্রা শুরু
শোকের পরেও জীবনের টান
ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে শর্মা পরিবার। সব্যসাচী নিজেকে গুটিয়ে নেন নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত কিছুটা শুকোলেও স্মৃতি থেকে যায় চিরকাল। এদিন বিয়ের আসরে ঐন্দ্রিলার মা আবেগভরে বলেন, “ও আমাদের চারপাশেই আছে।” এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁদের বিশ্বাস শরীর নেই, কিন্তু উপস্থিতি আছে।



