Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তামাকজাত পণ্যের উপর বাড়তি জিএসটি কার্যকর হলেও তার আগেই গোটা জানুয়ারি মাস জুড়ে অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে তামাক শিল্প (Cigarette Price)। বিশেষ করে সিগারেট ও পানমশলার বাজারে তৈরি হয়েছে একপ্রকার অঘোষিত সংকট। শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকেই বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মজুতদারি এবং কালোবাজারির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেও সেই অস্থিরতা কাটেনি, বরং আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বাজেটের আগেই দাম বাড়ানোর অভিযোগ (Cigarette Price)
এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে সিগারেটের উপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা হতেই বাজারে শুরু হয় অস্বাভাবিক দৌড়ঝাঁপ। অভিযোগ উঠেছে, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগেই বহু বিক্রেতা প্রিন্টেড প্রাইসের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি শুরু করেন। প্যাকেট পিছু পাঁচ থেকে দশ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। পুরনো স্টকের সিগারেটই নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে, অথচ বাজারে এখনও নতুন প্রিন্টেড দামের প্যাকেট আসেনি।
কালোবাজারিতে জড়িত বড় পরিবেশকরাও? (Cigarette Price)
টোবাকো ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সিগারেট বিক্রি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, শুধু ছোট দোকানদার নয়, বড় পরিবেশকরাও এই কালোবাজারির সঙ্গে যুক্ত। সংস্থার কাছে এই নিয়ে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। কলকাতার বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুরনো দামে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও পানমশলা মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কলকাতার এক নামী সিগারেট পরিবেশক সংস্থার কর্তা অবশ্য বলেন, “কিছু দোকানদার কালোবাজারি করছেন, সেটা ঠিক। তবে জিএসটি লাগু হওয়ার পর যে হারে দাম বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কায় অনেক ক্রেতাই এখন বাড়তি সিগারেট কিনে রাখছেন। সেটাও সমস্যার একটা বড় কারণ।”
ওড়িশার নিষেধাজ্ঞা ও সীমান্ত পেরিয়ে পাচার (Cigarette Price)
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাশের রাজ্য ওড়িশা তামাকজাত পানমশলা ও সিগারেটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে চোরাচালানের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। টোব্যাকো বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ যশবন্তকুমার চিডিপথু কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত শুল্কের ফলে কালোবাজারি আরও বাড়বে এবং মায়ানমার ও নেপাল থেকে বেআইনি সিগারেট ঢুকে পড়বে ভারতের বাজারে। বাস্তবে সেই আশঙ্কার ছবিও মিলছে। ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নেপাল ও মায়ানমারের সিগারেট দাপটের সঙ্গে বিকোচ্ছে। শিলিগুড়িতেও সহজেই মিলছে নেপালের সিগারেট, যেগুলির নেশা তুলনামূলক বেশি বলে দাবি অনেকের।
কতটা বাড়ছে সিগারেটের দাম? (Cigarette Price)
১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতে তামাকজাত পণ্যে জিএসটি হয়েছে ২৮ শতাংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কমপেনসেশন সেস এবং কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক। শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের হিসেব অনুযায়ী, ১০টি সিগারেটের একটি প্যাকেট বাজারে ছাড়তে কোম্পানিগুলিকে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করতে হবে। ফলে সবচেয়ে কমদামি পাঁচ টাকার সিগারেটের দাম অন্তত ছয় টাকায় পৌঁছবে বলেই অনুমান। মাঝারি ও দামি সিগারেটের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি হবে। এই আশঙ্কাতেই অনেক ক্রেতা আগেভাগে সিগারেট কিনে মজুত করতে গিয়ে উল্টো ক্ষতির মুখে পড়ছেন, কারণ দোকানদাররা নিজেদের মতো করে আগেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
বিড়ির জিএসটি কমলেও দাম কমার ইঙ্গিত নেই (Cigarette Price)
এই ছবির উল্টো দিকে রয়েছে বিড়ি শিল্প। বিড়ির উপর জিএসটি কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হলেও বাজারে তার দাম কমার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচের অজুহাতে বিড়ির দাম একই জায়গায় থেকে যাবে।
স্বাস্থ্য যুক্তি বনাম অর্থনৈতিক বাস্তবতা (Cigarette Price)
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত জিএসটি চাপানো হয়েছে মূলত জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে। ক্যানসার-সহ নানা মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করাই এই নীতির লক্ষ্য। তবে শিল্পমহলের প্রশ্ন, অতিরিক্ত কর চাপালে কি সত্যিই ব্যবহার কমবে, নাকি তা কালোবাজার ও পাচারকে আরও উৎসাহ দেবে?
আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
শেয়ার বাজারে ধস
এই নীতির প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। আইটিসি-সহ একাধিক তামাকজাত পণ্যের সংস্থার শেয়ারে ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছে। সোমবার বাজার আরও নেমেছিল, বিকেলের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও স্থায়ী স্বস্তির ইঙ্গিত নেই। শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।



