Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদি-কে সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনাল ইরানের আদালত (Iran)। তাঁর আইনজীবী ও সমর্থকদের তরফে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইরান প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আইনজীবী মোস্তাফা নিলির বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক অভিযোগে আলাদা আলাদা সাজা দেওয়া হয়েছে নার্গিসকে, যা মিলিয়ে কার্যত আরও দীর্ঘ সময় তাঁকে কারাগারে কাটাতে হবে।

কী অভিযোগে সাজা নার্গিসের? (Iran)
নার্গিস মোহাম্মদির আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, ‘ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশ’-এর অভিযোগে তাঁকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে আরও দেড় বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে এ ছাড়াও তাঁর ওপর দু’বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। এই রায়ের ফলে নার্গিসের নাগরিক অধিকার কার্যত আরও সংকুচিত হল বলেই মনে করছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলি।
অসুস্থতার মধ্যেই আদালতের রায় (Iran)
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রায় ঘোষণার ঠিক আগেই ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনশনে বসেছিলেন নার্গিস মোহাম্মদি। কারাগারের ভেতরে বন্দিদের প্রতি দুর্ব্যবহার, চিকিৎসার অভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই তাঁর এই অনশন বলে জানা যায়। এর আগেও একাধিকবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে সাময়িক মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ইরান প্রশাসন। কিন্তু মুক্তির সময়সীমা শেষ হতেই ফের গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।

গ্রেপ্তার, মুক্তি, ফের গ্রেপ্তার (Iran)
৫৩ বছর বয়সি এই সমাজকর্মীর জীবনে গ্রেপ্তার ও কারাবাস যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৫ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন নার্গিস মোহাম্মদি। গত প্রায় দুই দশকে তাঁর জীবনের বড় অংশই কেটেছে কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে। বিশেষ করে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে কুখ্যাত সেখানেই বারবার বন্দি থাকতে হয়েছে তাঁকে।
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার (Iran)
গত বছরের ডিসেম্বরে ফের গ্রেপ্তার হন নার্গিস। তাঁর সংস্থা ‘নার্গিস ফাউন্ডেশন’ জানায়, মাশহাদ শহরে বিশিষ্ট আইনজীবী খোসরু আলিকোরদি-র শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ইরানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে মারধর করে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দা শুরু হয়। বহু মানবাধিকার সংগঠন এবং রাষ্ট্র ইরান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে।
আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
নোবেল শান্তি পুরস্কার ও নার্গিসের লড়াই
২০২৩ সালে ইরানে মহিলাদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং মানবাধিকারের পক্ষে নিরলস আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল নার্গিস মোহাম্মদিকে। কারাগারে থেকেও তিনি কখনও প্রতিবাদের ভাষা থামাননি। বন্দিদের ওপর অত্যাচার, নারীদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার বিরুদ্ধে বারবার আওয়াজ তুলেছেন তিনি যা ইরান প্রশাসনের চোখে তাঁকে করে তুলেছে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’।



