Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালিজের একেবারে প্রত্যন্ত প্রান্তে বরফের বুক চিরে নেমে আসে এক আশ্চর্য জলপ্রপাত যেন বরফেরই রক্তক্ষরণ হচ্ছে(Antarctica Blood)! অবিশ্বাস্য শোনালেও এটি সত্যি। এই রহস্যময় লাল জলপ্রপাতের নাম “ব্লাড ফলস” (Blood Falls)।
জলপ্রপাতের রক্তক্ষরণ (Antarctica Blood)
টেইলর গ্লেসিয়ারের শেষ প্রান্ত থেকে এই রক্ত লাল জলধারা গড়িয়ে পড়ে লেক বোনিতে। চারপাশের সাদা বরফে ঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্যে গাঢ় লাল রঙের এই প্রবাহ চোখে পড়ার মত ভয়ংকর ও সুন্দর। ১৯১১ সালে অস্ট্রেলীয় ভূতত্ত্ববিদ গ্রিফিথ টেলর প্রথম এই জলপ্রপাতের কথা নথিভুক্ত করেন, রবার্ট ফ্যালকন স্কটের অভিযানের সময়।
কোথা থেকে এল এত রক্ত! (Antarctica Blood)
তখন এই লাল রঙ নিয়ে নানা নাটকীয় ধারণা তৈরি হয়। কেউ ভেবেছিলেন লাল শৈবালের কারণে রঙ এমন, কেউ আবার ধারণা করেছিলেন অজানা কোনও জীবের অস্তিত্ব আছে এখানে। তবে পরে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই রঙের সঙ্গে রক্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
লাল রঙের উৎসের সন্ধানে
আসলে ব্লাড ফলসের লাল রঙের উৎস হল জলে লোহার উপস্থিতি। টেইলর গ্লেসিয়ারের গভীরে থাকা এই জল যখন বরফের বাইরে এসে অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে, তখন লোহার অক্সিডেশন ঘটে ঠিক যেমন লোহায় মরচে পড়ে। এই রাসায়নিক বিক্রিয়াতেই জল গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে।
জলপ্রপাতের উৎস অতিলবণাক্ত হ্রদ(Antarctica Blood)
আরও বিস্ময়কর বিষয় হল, এই জল আসে বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা এক অতিলবণাক্ত হ্রদ থেকে, যা প্রায় দশ লক্ষ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি। এত বেশি লবণ থাকায় প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও জল জমে যায় না। এখানেই বাস করে সূক্ষ্ম জীবাণু, যারা সূর্যালোক বা অক্সিজেন ছাড়াই লোহা ও সালফেটের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে শক্তি তৈরি করে বেঁচে থাকে।
জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন (Antarctica Blood)
ব্লাড ফলস বিজ্ঞানীদের জন্য পৃথিবীর অতীত ও ভবিষ্যৎ দু’দিকই বুঝতে সাহায্য করে। এমনকি বৃহস্পতি বা শনি গ্রহের বরফাচ্ছন্ন উপগ্রহে জীবনের সম্ভাবনা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তোলে।



