Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মানুষের আসল অনুভূতিই সামনে আসে। আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গেইনসভিল শহরে ঘটে যাওয়া এক বিমান দুর্ঘটনা সেই চিরন্তন সত্যকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে (plane crash)। আকাশে উড়তে উড়তেই হঠাৎ যন্ত্র বিকল, দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট ছোট বিমান। পাইলট বুঝতে পারেন, আর হয়তো বাঁচা সম্ভব নয়। শেষ মুহূর্তে বিমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেন “দয়া করে আমার স্ত্রী মলিকে বলে দেবেন, আমি তাঁকে ও আমার বাবা-মাকে ভীষণ ভালোবাসি।” এই একটি বাক্যই যেন পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে দেয়।

যান্ত্রিক ত্রুটি ও দ্রুত অবনমন (plane crash)
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার। গেইনসভিল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির ইঞ্জিনে গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট ছোট বিমানগুলিতে ইঞ্জিন বিকল হওয়া মানেই বিপদের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। পাইলট রজার পরে জানান, গেইনসভিলের কাছাকাছি পৌঁছতেই হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা প্রথমে বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকায় স্পষ্ট হয়ে যায় সেই চেষ্টা আর সম্ভব নয়। আকাশে তখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছিল লড়াই।
মৃত্যুর মুখে শেষ বার্তা (plane crash)
এই সংকটময় মুহূর্তেই পাইলট নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে জানান তাঁর শেষ ইচ্ছা। তিনি ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো আর জীবিত ফেরা হবে না। স্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাবনায় মানুষ যখন নিজের জীবনের শেষ হিসাব কষতে বসে, তখন পরিবার ও প্রিয়জনের কথাই সবার আগে মনে আসে। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। পেশাদারিত্ব বজায় রেখেও এক মানবিক মুহূর্তে নিজের আবেগ লুকোননি পাইলট।
ব্যস্ত সড়কে অবতরণের দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত (plane crash)
বিমানবন্দরে ফেরা সম্ভব নয় বুঝে পাইলটরা নেন এক কঠিন সিদ্ধান্ত সামনের ব্যস্ত সড়কেই জরুরি অবতরণ। এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট বিমান দ্রুত নেমে আসছে ব্যস্ত রাস্তার উপর। গাড়িচালকেরা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবুও বিমানটি কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা খায়। ভেঙে যায় বিমানের পাখা ও বিভিন্ন অংশ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, এত বড় দুর্ঘটনার পরও কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। এটি নিঃসন্দেহে এক অলৌকিক রক্ষা বলেই মনে করছেন অনেকে।
দুই পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধি (plane crash)
দুর্ঘটনার সময় বিমানে ছিলেন দুইজন প্রধান পাইলট রজার এবং এক ট্রেনি পাইলট। সংকটের মুহূর্তে তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দক্ষতাই বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। জরুরি অবতরণের সময় বিমানকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা, রাস্তায় থাকা যানবাহনকে এড়ানোর চেষ্টা সব মিলিয়ে এটি ছিল উচ্চ প্রশিক্ষণ ও মানসিক দৃঢ়তার এক বাস্তব পরীক্ষা।
আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
প্রযুক্তি, ঝুঁকি ও মানবিকতা
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, ঝুঁকি কখনও সম্পূর্ণ শূন্য হয় না। এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট ছোট বিমানগুলিতে যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে একই সঙ্গে এ ঘটনাটি মানবিক সাহস ও পেশাদার দায়িত্ববোধেরও এক উজ্জ্বল উদাহরণ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একজন পাইলট যেমন তাঁর প্রিয়জনের কথা ভেবেছেন, তেমনই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে প্রাণহানি এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।



