Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় (Bullet Train) যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে সদ্য পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে একসঙ্গে সাতটি নতুন হাই–স্পিড রেল করিডর তৈরির ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এই সাতটি করিডরের মোট দৈর্ঘ্য অন্তত চার হাজার কিলোমিটার বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে। বাজেটে ঘোষণার পরপরই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রেল মন্ত্রক এবং রেল বোর্ড।
হাই–স্পিড রেল করিডর (Bullet Train)
বাজেটে যে সাতটি হাই–স্পিড রেল করিডরের (Bullet Train) কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল—মুম্বই–পুনে, পুনে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু, দিল্লি–বারাণসী এবং বারাণসী–শিলিগুড়ি। এই করিডরগুলির মাধ্যমে দেশের পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ গড়ে তোলাই লক্ষ্য কেন্দ্রের।

শিনকানশেন প্রযুক্তি-নির্ভর (Bullet Train)
এই সমস্ত করিডরে চলবে জাপানের অত্যাধুনিক শিনকানশেন (Bullet Train) প্রযুক্তি-নির্ভর হাই–স্পিড ট্রেন, যাকে সাধারণভাবে ‘বুলেট ট্রেন’ বলা হয়। রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পে অন্য কোনও দেশের নয়, শুধুমাত্র জাপানের শিনকানশেন প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হচ্ছে। অতীতে কলকাতা মেট্রো রেলে যেমন রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, তেমনই এই হাই–স্পিড রেল প্রকল্পে জাপানের প্রযুক্তির উপরই ভরসা রাখছে কেন্দ্র।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক (Bullet Train)
বাজেটে ঘোষণার পরই রেল বোর্ডের সদস্যরা একাধিক উচ্চপর্যায়ের (Bullet Train) বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে প্রতিটি করিডরের ডিটেল্ড প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রেল বোর্ডের এক সদস্য জানান, “প্রথম ধাপে প্রতিটি রুটে সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে, সেই বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি করা জরুরি। তার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে রেল বোর্ডের পক্ষ থেকে ন্যাশনাল হাই–স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচএসআরসিএল)-এর কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই এনএইচএসআরসিএল সংস্থাই বর্তমানে মুম্বই–আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডর নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। নতুন সাতটি করিডরের কাজ কত দ্রুত শুরু করা সম্ভব এবং কত সময়ের মধ্যে তা শেষ করা যেতে পারে, সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।
মানবসম্পদ বা কর্মী নিয়োগ (Bullet Train)
রেল বোর্ডের আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল (Bullet Train) মানবসম্পদ বা কর্মী নিয়োগ। হাই–স্পিড রেল প্রকল্পকে সফল করতে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড ফিল্ড টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি ‘অ্যাকশন পয়েন্ট’-এর অগ্রগতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করে কেন্দ্রকে রিপোর্ট দেওয়া হবে, যাতে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এই নতুন করিডরগুলির ঘোষণার আগেই অবশ্য দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প হিসেবে মুম্বই–আমেদাবাদ হাই–স্পিড রেল করিডর-এর কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরের মধ্যে গুজরাট ও দাদরা–নগর হাভেলিতে পড়ছে ৩৫২ কিলোমিটার, আর মহারাষ্ট্রে রয়েছে ১৫৬ কিলোমিটার অংশ। এই করিডরটি সবরমতী, আমেদাবাদ, আনন্দ, ভদোদরা, ভারুচ, সুরাট, বিলিমোরা, ভাপি, বোইসার, ভিরার, থানে হয়ে মুম্বইকে সংযুক্ত করবে।
কেন্দ্রের পরিকল্পনা
কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে মুম্বই–আমেদাবাদ করিডরের অন্তত ১০০ কিলোমিটার অংশে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি অধিগ্রহণ সমস্যা। রেল সূত্রের খবর, বারবার জমি সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ ব্যাহত হওয়ায় এই প্রকল্পের প্রাথমিক খরচ ১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: Mathura Incident: তিন শিশু-সহ পাঁচ জনের রহস্যমৃত্যু! দেওয়ালে লেখা ‘আমরা আত্মহত্যা করছি’
বাংলায় রেল প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা ও জমি সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। যদিও রেল সূত্রের দাবি, মুম্বই–আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পেও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। নতুন ঘোষিত সাতটি হাই–স্পিড করিডরের ক্ষেত্রেও জমি অধিগ্রহণ বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, দেশের রেল পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কেন্দ্রের এই হাই–স্পিড রেল পরিকল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও খরচ নিয়ন্ত্রণ— এই দু’টি বিষয়ই আগামী দিনে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলবে কেন্দ্র ও রেল মন্ত্রককে।


