Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় ভোট। এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যখন সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই প্রভাব পড়ল এক ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আয়োজনে (Bangladesh)। মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক উরশে অংশ নিতে এ বছর কোনও পদক্ষেপই করল না বাংলাদেশস্থিত আঞ্জুমান ই কাদেরিয়া কমিটি। ১২৪ বছরের ঐতিহ্যে এ নিয়ে মোট ছয়বার বন্ধ থাকল বাংলাদেশের রাজবাড়ি থেকে মেদিনীপুরে আসা ‘উরশ স্পেশাল’ ট্রেন। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মহম্মদ মহবুব উল আলম।

মওলাপাকের উরশ (Bangladesh)
প্রতি বছর বাংলার ফাল্গুন মাসের ৪ তারিখ মেদিনীপুর শহরের মির্জামহল্লা জোড়া মসজিদে পালিত হয় মহান সুফি সাধক সৈয়দ শাহ মুর্শেদ আলি আলকাদেরী আলবাগদাদী, যিনি ‘মওলাপাক’ নামে সমধিক পরিচিত, তাঁর উরশ। এ বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ১২৫তম উরশ শরিফ। এই উরশকে ঘিরে মেদিনীপুরে ভিড় জমে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক মানুষের। জোড়া মসজিদ ও সংলগ্ন মাজার এলাকা তখন হয়ে ওঠে জনসমুদ্রে পরিণত। ধর্মীয় ভক্তি, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে।
বাংলাদেশের ভক্তদের ঐতিহ্যবাহী অংশগ্রহণ (Bangladesh)
উরশ উপলক্ষে প্রতিবছরই সবচেয়ে বেশি বিদেশি ভক্তসমাগম হয় বাংলাদেশ থেকে। প্রায় দুই হাজার বা তারও বেশি পুন্যার্থীকে নিয়ে রাজবাড়ি থেকে একটি বিশেষ ট্রেন মেদিনীপুরে আসে। এই ট্রেন পরিচালনার দায়িত্বে থাকে আঞ্জুমান ই কাদেরিয়া কমিটি। এই বিশেষ ট্রেন শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয় এটি দুই বাংলার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের এক প্রতীক। বহু পরিবার বছরের পর বছর ধরে এই সফরের সঙ্গে আবেগগতভাবে যুক্ত।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রভাব (Bangladesh)
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির। সংখ্যালঘু নির্যাতন থেকে শুরু করে নানা রাজনৈতিক ইস্যু আন্তর্জাতিক পরিসরেও আলোচিত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। গত বছরও বিশেষ ট্রেন চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অনুমতি না মেলায় ট্রেন আসেনি। এ বছর পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় উদ্যোক্তারা কোনও সরকারি অনুমতির আবেদনই করেননি। মহম্মদ মহবুব উল আলম জানিয়েছেন, “সার্বিক পরিস্থিতি চিন্তা করে পুন্যার্থীদের নিয়ে মেদিনীপুর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা দুই দেশের মধ্যে মেলবন্ধনের কাজ করি। আশা করি আগামী বছর সব স্বাভাবিক হলে আবার যেতে পারব।”
ইতিহাসে ছয়বার বিরতি (Bangladesh)
উরশ স্পেশাল ট্রেনের দীর্ঘ ইতিহাসে এই নিয়ে মোট ছয়বার যাত্রা বন্ধ থাকল। মুক্তিযুদ্ধের সময়, করোনা মহামারির সময় মোট চার বছর ট্রেন চলেনি। সাম্প্রতিক দুই বছরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেই তালিকায় আরও দুই বছর যুক্ত হল। এই বিরতিগুলি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা
উরশ মূলত সুফি ভাবধারার এক আধ্যাত্মিক উৎসব, যেখানে ধর্মীয় ভেদাভেদকে অতিক্রম করে মানবিকতা ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দুই দেশের ভক্তদের মিলনমেলা এই উৎসবকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। বাংলাদেশের আয়োজকরা স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের লক্ষ্য সবসময়ই দুই দেশের মৈত্রীর বন্ধন সুদৃঢ় করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সফর বাতিল হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা আশাবাদী।



