Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গাল্ফ এয়ারের মানামা থেকে হায়দরাবাদগামী উড়ানকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে ছড়াল তীব্র বোমাতঙ্ক (Hyderabad)। বাহারিনের রাজধানী মানামা থেকে উড্ডয়নের কিছু পরেই বিমানসংস্থা একটি হুমকি ইমেল পায়। সেখানে দাবি করা হয়, বিমানে জঙ্গি সংগঠনের একাধিক সদস্য রয়েছে এবং হায়দরাবাদে পৌঁছনোর পরেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদেই হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবু গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম সতর্কতা জারি হয় বিমানবন্দর চত্বরে।

হুমকি ইমেলের ভাষা ও দাবি (Hyderabad)
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, গাল্ফ এয়ারের জিএফ২৭৪ নম্বর মানামা–হায়দরাবাদ উড়ানটি সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ একটি হুমকি ইমেলের কথা জানতে পারে। অজ্ঞাত একটি ইমেল আইডি থেকে একাধিক বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ইমেল ঠিকানায় বার্তাটি পাঠানো হয়। ইমেলে লেখা ছিল, “পবিত্র জেহাদ: বাহারিনের বিমানটি হায়দরাবাদে পৌঁছানোর পরেই বিস্ফোরণ ঘটবে।” প্রেরক নিজেকে ‘তামিল লিবারেশন অর্গানাইজেশন’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধি বলে দাবি করে। যদিও এই সংগঠনের প্রকৃত অস্তিত্ব বা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি ইমেলের উৎস, সার্ভার এবং আইপি অ্যাড্রেস খতিয়ে দেখছে।
দ্রুত সক্রিয় নিরাপত্তা বলয় (Hyderabad)
হুমকি বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হায়দরাবাদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতা জারি করে। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF) বিমানবন্দরের ভেতরে এবং বাইরে নজরদারি বাড়ায়। বিমানটি অবতরণের পর যাত্রীদের দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নামিয়ে আনা হয়। এরপর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড বিমানটিতে তল্লাশি চালায়, লাগেজ ও কার্গো অংশ পরীক্ষা করা হয়, বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট অংশ ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। তবে পুরো বিমান ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী স্ক্যান করা হয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে।
যাত্রীদের আতঙ্ক ও প্রশাসনের ভূমিকা (Hyderabad)
এই ধরনের হুমকি বার্তা স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যদিও বিমান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং যাত্রীদের আশ্বস্ত করে। বিমানবন্দর প্রশাসন জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে। কোনও ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। গোটা প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা হয়েছে।
ভুয়ো হুমকি নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? (Hyderabad)
ভারতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান সংক্রান্ত ভুয়ো বোমা হুমকির ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হুমকি পাঠিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলি ‘হক্স’ বা মিথ্যা হুমকি। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি হুমকিকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ একটিমাত্র সত্যিকারের হামলাই বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক দুষ্টুমি? নাকি আন্তর্জাতিক স্তরে আতঙ্ক সৃষ্টির কোনও পরিকল্পিত প্রয়াস? তদন্তকারী সংস্থাগুলি সাইবার ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইমেলের উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক উড়ান ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ (Hyderabad)
মানামা–হায়দরাবাদ রুটটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংযোগের অংশ। গাল্ফ দেশগুলিতে কর্মরত বহু ভারতীয় নাগরিক এই রুটে যাতায়াত করেন। ফলে এই ধরনের হুমকি কেবল একটি উড়ান নয়, বৃহত্তর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তোলে। আন্তর্জাতিক উড়ানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্তর আরও কড়া হলেও সাইবার হুমকি এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইমেল-ভিত্তিক হুমকি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

আরও পড়ুন: Cyber Helpline: প্রথম দিনেই ২০০ ফোন! সাইবার আতঙ্কে কাঁপছে কলকাতা
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ইমেলের উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে। আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করা হচ্ছে, ইমেল সার্ভার বিশ্লেষণ চলছে, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যদি এটি ভুয়ো হুমকি প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারতে ভুয়ো বোমা হুমকি দেওয়ার জন্য কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে।



