Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৩ বছরের ভারতীয় পড়ুয়া জাহ্নবী কান্দুলা (America)। তিন বছর পর সেই ঘটনার নিষ্পত্তিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল শহর প্রশাসন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জাহ্নবীর পরিবারকে ২.৯০ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬২ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি আর্থিক নিষ্পত্তি নয় এটি এক আন্তর্জাতিক আলোড়ন তোলা ঘটনার নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়াও বটে।

পড়াশোনার স্বপ্ন থেকে মৃত্যুর অন্ধকার (America)
২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি দেন জাহ্নবী। ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় বিদেশ বিভুঁইয়ে থাকা এই তরুণীর জীবন আচমকাই থেমে যায় ২০২৩ সালের এক রাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কিন পুলিশ অফিসার কেভিন ডেভ তাঁর গাড়ি ঘণ্টায় প্রায় ১১৯ কিলোমিটার বেগে চালাচ্ছিলেন যেখানে ওই রাস্তায় গতি সীমা ছিল ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। অতিরিক্ত গতির কারণে গাড়ির ধাক্কায় প্রায় একশো ফুট দূরে ছিটকে পড়েন জাহ্নবী। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। একজন আইনরক্ষকের গাড়ির চাকায় এমন নির্মম মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে আইন প্রয়োগের নৈতিকতা নিয়ে।
প্রথমে ‘লঘু’ করে দেখানোর অভিযোগ (America)
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ঘটনাটিকে প্রথমদিকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযুক্ত অফিসারকে আড়াল করার চেষ্টার কথাও সামনে আসে। এই আচরণে শুধু ভারতীয় মহল নয়, আমেরিকার সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ হন। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি তদন্তের দাবি তোলে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রশাসনিক অবস্থান (America)
জাহ্নবীর মৃত্যুর পর বিষয়টি ভারত ও আমেরিকা দুই দেশেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। একজন তরুণ বিদেশি ছাত্রীর মৃত্যু, তাও আবার একজন পুলিশ অফিসারের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। চাপের মুখে শহর প্রশাসন স্বীকার করে যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশেষে তিন বছর পর মামলার নিষ্পত্তিতে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২.৯০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ (America)
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিঃসন্দেহে বড়। ভারতীয় মুদ্রায় ২৬২ কোটি টাকা এক বিশাল অঙ্ক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একটি তরুণ প্রাণের মূল্য কি শুধুই অর্থে মাপা যায়? এই ক্ষতিপূরণ প্রশাসনের দায় স্বীকারের প্রতীক হলেও, এটি কি প্রকৃত ন্যায়বিচার? জাহ্নবীর পরিবার তাদের মেয়েকে আর কখনও ফিরে পাবে না। তাঁদের ক্ষতি অপূরণীয়।
অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের শাস্তি (America)
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক কেভিন ডেভ কী শাস্তি পাবেন? ক্ষতিপূরণ দেওয়া মানেই কি ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি? তাঁর বিরুদ্ধে কি কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নাকি প্রশাসনিক স্তরেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এক বিষয়, কিন্তু ফৌজদারি বিচারে অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। যদি প্রমাণ হয় যে তিনি বেপরোয়া ও অবৈধভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তাহলে কঠোর শাস্তির দাবি উঠতেই পারে।

আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
নৈতিকতার সন্ধিক্ষণে এক ঘটনা
এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয় এটি আইনরক্ষকের দায়িত্ব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। একজন পুলিশ অফিসারের হাতে আইন থাকে। সেই আইন ভেঙে যদি জীবনহানি ঘটে, তবে তা সাধারণ অপরাধের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর বলে বিবেচিত হয়। কারণ এতে জনআস্থার ভিত্তিই নড়ে যায়।



