Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজনীতির মঞ্চে এমন প্রত্যাবর্তন (Tarique Rahman) সচরাচর দেখা যায় না। ২০০৮ সালে গ্রেফতারির পর জামিনে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বারবার বদলেছে, আন্দোলন হয়েছে, সরকার পতন হয়েছে-কিন্তু তিনি আর ফেরেননি। দীর্ঘ প্রায় সতেরো বছর পর অবশেষে দেশে ফিরে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এলেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয়, দেশে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে তাঁর নাম শীর্ষে।
‘ডার্ক প্রিন্স’ (Tarique Rahman)
বিএনপির অন্দরমহলে বহুদিন ধরেই তাঁকে ‘ডার্ক প্রিন্স’ (Tarique Rahman) বলা হয়। কারণ, প্রকাশ্যে কম দেখা গেলেও অতীতে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর প্রভাব ছিল বলেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা। ২০০১ থেকে ২০০৬-এই সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও তিনি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে আলোচনা ছিল। তবে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারি তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় বড় ধাক্কা আনে। জামিনের পর লন্ডনে পাড়ি দিয়ে সেখান থেকেই দলীয় কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন।

তার ফেরা নিয়ে ছিল একাধিক প্রশ্ন (Tarique Rahman)
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সূচনা নতুন সমীকরণ তৈরি করে। তবু প্রশ্ন ছিল-তিনি আদৌ ফিরবেন কি না। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতির পর সেই জল্পনা আরও বাড়ে। অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় অবতরণ করেন তারেক। মাটিতে প্রণাম করে তিনি যেন জানান দেন-এবার স্থায়ীভাবেই ফিরেছেন।

আরও পড়ুন: BNP Victory Bangladesh: নির্বাচনে বিরাট জয়, তবু বিজয় মিছিলে ‘না’ তারেকের! নেপথ্যে কোন কারণ?
বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা
তার প্রত্যাবর্তনের পর বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। দীর্ঘ অস্থিরতার পর সাধারণ মানুষও বিকল্প নেতৃত্বের প্রত্যাশায় তাকিয়ে ছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয় সেই আস্থারই প্রতিফলন। কট্টর রাজনীতির বদলে স্থিতিশীলতার বার্তা দিয়েই তিনি এগোতে চান বলে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের পূর্ণ দায়িত্ব এখন তাঁর হাতে। একই সঙ্গে দেশের শাসনভার গ্রহণের সম্ভাবনাও স্পষ্ট। নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দোরগোড়ায়-তারেক রহমানের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় অধ্যায়।


