Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্মীয় পর্যটন ও আন্তঃসীমান্ত (Bihar News) সংযোগে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে বিহার সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে সড়ক নির্মাণ খাতে মোট ৮,২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। সেই বরাদ্দের অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে সামনে এসেছে নেপালের পশুপতিনাথ মন্দির এবং ঝাড়খণ্ডের বৈদ্যনাথ ধামকে যুক্ত করার হাই-স্পিড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ পরিকল্পনা।
প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য (Bihar News)
বিহারের মন্ত্রী দিলীপকুমার জয়সওয়াল (Bihar News) জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ২৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে পশুপতিনাথ ও বৈদ্যনাথ ধামের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৫৩৪ কিলোমিটার। সড়কপথে যাত্রা করতে সময় লাগে গড়ে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা। নতুন করিডর চালু হলে সেই সময় নেমে আসতে পারে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টায়। অর্থাৎ, যাত্রাপথ প্রায় অর্ধেকে কমে যাবে এবং তীর্থযাত্রীদের ভ্রমণ হবে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
প্রস্তাবিত রুট (Bihar News)
প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়েটি শুরু হবে (Bihar News) কাঠমান্ডু থেকে। এরপর নেপালের ভীমানগর ও বীরপুর অতিক্রম করে ভারতের বিহার রাজ্যে প্রবেশ করবে সুপল জেলার মাধ্যমে। বিহারের মধ্যে দিয়ে এই করিডর যাবে—সুপল, মাধেপুরা, মুঙ্গের, বাঁকা। এরপর সড়কটি পৌঁছবে ঝাড়খণ্ড-এর দেওঘর জেলায়, যেখানে অবস্থিত বৈদ্যনাথ ধাম। এই রুট কার্যকর হলে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলা সরাসরি আন্তর্জাতিক তীর্থপথের সঙ্গে যুক্ত হবে।

দীর্ঘ পথ ও যানজট (Bihar News)
বর্তমানে দীর্ঘ পথ ও যানজটের কারণে (Bihar News) তীর্থযাত্রীদের প্রায় ১৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে, যাত্রার সময় কমে দাঁড়াবে ২-৩ ঘণ্টায়, জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, পরিবহন খরচ কমবে, পণ্য পরিবহণ দ্রুততর হবে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় করিডর নয়, বরং একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পবিত্র তীর্থস্থান
পশুপতিনাথ মন্দির ও বৈদ্যনাথ ধাম—উভয়ই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই দুই মন্দিরে দর্শনে যান। এই হাই-স্পিড করিডর চালু হলে দুই দেশের তীর্থযাত্রা আরও সহজ হবে, ধর্মীয় পর্যটনের প্রসার ঘটবে, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে, হোটেল, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়বে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ভারত ও নেপালের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা। দিলীপকুমার জয়সওয়াল আরও জানান, ভারত-নেপাল সীমান্তে ইতিমধ্যেই ৫৫৪ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি সেই পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
আরও পড়ুন: Bengaluru Accident: বেঙ্গালুরুতে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় মৃত ৭, হোসাকোটে–দেবাসপেট হাইওয়েতে দুর্ঘটনা
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন মিললে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং কারিগরি সমীক্ষার পর ধাপে ধাপে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।


