Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মহারাষ্ট্রের পুণে থেকে পুরুলিয়ার বরাবাজারের বাসিন্দা সুখেন মাহাতোর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে (Purulia)। ভিনরাজ্যে কর্মরত এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, ভাষা-রাজনীতির অভিযোগ এবং পুলিশের ভিন্ন ব্যাখ্যা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ। সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক দিক থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং স্থানীয় স্তরে আবেগ তুঙ্গে।

দেহ উদ্ধারের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর (Purulia)
মঙ্গলবার পুণে শহরের উপকণ্ঠে শিকরাপুর থানার অন্তর্গত একটি হোটেলের পিছন থেকে উদ্ধার হয় সুখেন মাহাতোর দেহ। দেহে আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রাথমিকভাবে খুনের সন্দেহ জোরালো হয়। এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার নেয়। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, বাংলায় কথা বলার কারণেই সহকর্মীদের হাতে খুন হতে হয়েছে সুখেনকে। তাঁদের দাবি, ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি-র শাসনকেও এই ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধীরা।
এফআইআরে কী লেখা রয়েছে? (Purulia)
সুখেনের ভাই তুলসীরামের সম্মতিতেই পুণে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। শিকরাপুর থানায় মারাঠি ভাষায় বয়ান লেখা হলেও তা হিন্দিতে অনুবাদ করে শোনানো হয় বলে জানিয়েছেন তুলসীরাম। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, ৯ তারিখ দুপুরে সুখেন কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। সন্ধ্যায় একই কারখানায় কাজে গিয়ে তুলসীরাম সুখেনকে দেখতে পাননি। একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। পরদিন সকালেও ঘরে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে সুপারভাইজারের কাছ থেকে খবর মেলে, “আপলে ঘর” নামের একটি হোটেলের পিছনে সুখেনের দেহ পড়ে রয়েছে। সূত্রের খবর, তুলসীরাম এফআইআরে উল্লেখ করেছেন কী কারণে এবং কারা খুন করেছে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও নির্দিষ্ট ধারণা ছিল না। তাই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুণে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কী উঠে এল? (Purulia)
পুণে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ গিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ভাষাগত বিদ্বেষের কোনও প্রমাণ মেলেনি। সূত্রের খবর, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছে, ওই দিন সুখেন কারখানায় যাননি। বরং কোথাও বসে মদ্যপান করেন বলে সন্দেহ। ফুটেজে দেখা যায়, টলতে টলতে তিনি একটি স্থানে গিয়ে দাঁড়ান, যেখানে তিনজন যুবক বেঞ্চে বসে মোবাইলে কিছু দেখছিলেন। সুখেন তাঁদের মোবাইলের দিকে ঝুঁকে কিছু দেখতে যান। এই আচরণে এক যুবক আপত্তি জানান। এরপর দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সূত্রের খবর, ওই যুবক সুখেনকে ধাক্কা দিতে শুরু করেন এবং দু’জনেই সিসিটিভির ফ্রেমের বাইরে চলে যান। পুলিশের অনুমান, মত্ত অবস্থায় বচসা থেকেই মারাত্মক সংঘর্ষের সূত্রপাত। ইতিমধ্যেই আমিন সওকত শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও দুই তরুণকে খোঁজা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
ভাষা-রাজনীতি না কি ব্যক্তিগত বচসা?
এই ঘটনায় সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন সুখেন কি শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে খুন হয়েছেন? সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেছে, ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর ভাষাগত বৈষম্য বাড়ছে। শুক্রবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবাজারে সুখেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, পুণে পুলিশের বক্তব্য এই মুহূর্তে ভাষা-বিদ্বেষের কোনও প্রমাণ নেই। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি আকস্মিক বচসা থেকে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।



